সেরে উঠছেন বৃক্ষ মানব আবুল বাজানদার | হেলথ বার্তা
,
শিরোনাম

সেরে উঠছেন বৃক্ষ মানব আবুল বাজানদার

বৃক্ষমানব আবুল বাজানদার হাতের আঙ্গুলে গজিয়ে ওঠা শেকড়ের মতো উপাদান থেকে মুক্ত হয়েছেন। আটবারের অপারেশন শেষে স্বাভাবিক হাত পেয়ে খুশি তিনি। কথা প্রসঙ্গে বলছিলেন, ১০-১২ বছর পর আবার নিজের স্বাভাবিক হাত দেখছি। সবার মতোই হাত খুলে চলতে পারছি। খুব ভালো লাগছে।

হাসিমুখে আবুল বাজানদার বলেন, মেয়েকে কোলে নিতে পারবো, নিজের হাতে খেতে পারবো, আবার কাজ করতে পারবো-আমার জীবন পুরোটাই আবার বদলে গেল। নিজের ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত হাতের আঙ্গুলগুলো ছিল, তার পরেই এই অসুখে পড়েন বাজানদার। বাজানদারের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, ওনার হাত দেখে ভালো লাগতেছে। ডাক্তাররা বলেছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো মুঠ (মুষ্টিবদ্ধ) করতি পারবে, আবার স্বাভাবিক হচ্ছেন উনি-এতেই খুব খুশি।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আবুলের পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে। ডান হাতটা বেশি ইমপ্রুভড করেছে। বাম হাতে হয়তো আর দুই কিংবা একটি অপারেশন লাগতে পারে। আর দুই পায়ে মাত্র একবার অপারেশন হয়েছে। তিনি বলেন, ডান হাতে বাজানদার কলম ধরতে পারছে। আমাদের বিশ্বাস, আর কিছুদিন পরেই বাম হাতেও ডান হাতের মতো উন্নতি হবে।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

তিনি বলেন, এখন বাজানদারের ফিজিও থেরাপি লাগবে, কারণ হাতের আঙ্গুলগুলো এতোদিন স্টিভ হয়ে ছিল। আজ এতবছর ধরে আঙ্গুলগুলো বন্ধ হয়ে ছিল, এখন ব্যায়াম করলেই সেগুলো সচল হয়ে যাবে। হাতের ওপরের শেকড়ের মতো অংশগুলো আপাতত মুক্ত হয়েছে।

কিন্তু সেগুলো ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এটাই এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। যেন তার হাতে এগুলো আর ফেরত না আসে। সার্জিক্যাল একটা অপারেশন করে একটা স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে, এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এগুলো যেন আর না হয়।

তিনি বলেন, আমেরিকাতে এই রোগের বিশেষজ্ঞ কাস্ট মার্টিনের কাছে বাজানদারের টিস্যু, রক্ত, মূত্রসহ বেশ কিছু জিনিস পাঠানো হয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমেরিকা এবং চীনেও ওরা কাজ করছে। এজন্য একটু সময় লাগছে, তারা গবেষণা করছে এই রোগটি নিয়ে। তারা আমাদের জানাবে, এগুলো যেন আর ফেরত না আসে সে জন্য কী কী সতর্কতা নিতে হবে আমাদের।

চিকিৎসকরা বলছেন আবুল বাজানদারের চিকিৎসা একটি দীর্ঘ-মেয়াদী প্রক্রিয়া। তাকে যদি সুস্থ করা যায় তাহলে বিষয়টি বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হবে বলে আশা করেন চিকিৎসকরা।

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে