শ্বাসকষ্ট একটি প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা জেনে নিন শ্বাসকষ্টের কারণ কি ও এর প্রতিকার | হেলথ বার্তা
,
আপডেট

শ্বাসকষ্ট একটি প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা জেনে নিন শ্বাসকষ্টের কারণ কি ও এর প্রতিকার

শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা। বিভিন্ন কারণে শ্বাসকষ্ট হয়। এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. রৌশনী জাহান। বর্তমানে তিনি শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : সাধারণত শ্বাসকষ্টের কারণগুলো কী কী?

উত্তর : শ্বাসকষ্টের কারণ অনেকগুলো হতে পারে। এর মধ্যে একটি হয় যে শ্বাসযন্ত্রের বা শ্বাসতন্ত্রের কারণে সমস্যা হয়। যেমন ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা রয়েছে, সিওপিডি রয়েছে, পালমোনারি ডিমাউথ; অ্যাজমা তো রয়েছেই। কার্ডিওভাসকুলারও একটি কারণ। হার্টের কারণে যেটা হচ্ছে, ধরেন কারো যদি হার্ট ফেইলিউর থাকে, সে ক্ষেত্রেও কিন্তু শ্বাসকষ্ট হয়।

এ ছাড়া ডায়াবেটিক রোগী যারা, তাদের যখন জটিলতা হয় বা মেটাবলিক এসিডোসিস—তখনো কিন্তু শ্বাসকষ্ট হয়। আমরা যখন রোগীর চিকিৎসা করি অবশ্যই এগুলো মাথায় রাখতে হয়।


প্রশ্ন : শ্বাসকষ্টটি শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যার কারণে হচ্ছে কি না সেটি আপনারা কীভাবে বোঝেন?

উত্তর : শ্বাসতন্ত্রের বা রেসপিরেটরি পদ্ধতির জন্য যে শ্বাসকষ্টটি সেখানে দেখা যায় শুধু শ্বাসকষ্ট থাকে না, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে তার কাশি হচ্ছে। অনেক দিন ধরে কাশি থাকতে পারে। পুরোনো কাশি বেড়ে যাচ্ছে বা হঠাৎ করে কাশি থাকতে পারে। সঙ্গে কফ বের হচ্ছে, কখনো কখনো কফের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায় ভোর রাতে ঘুমিয়ে আছে, রোগীর হঠাৎ করে শ্বাসে কষ্ট হচ্ছে, বুকের মধ্যে শাঁ শাঁ করছে। এরপর দেখা যায় যে সিওপিডির রোগীদের হাঁটাচলা করতে গেলে, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলে, কোনো কাজ করতে গেলে বা ব্যায়াম করতে গেলে, তখন শ্বাসকষ্টটা বেড়ে যায়। তখন আমরা বুঝতে পারি তার রেসপিরেটরি পদ্ধতির কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।


প্রশ্ন : সিওপিডি আসলে কী? এর লক্ষণগুলো কী?

উত্তর : আমরা সিওপিডিকে বলি ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। এটা দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের একটি রোগ। ধূমপানের কারণে এই শ্বাসকষ্টটা বেশি হয়ে থাকে। যারা ধূমপান করে, সাধারণত ৪০ বছরের পরে বয়স যাদের তাদের এই শ্বাসকষ্টটা শুরু হয়।

রোগীর কাশির সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকে এবং শ্বাসকষ্টের ধরনটা যখন সে কাজ করতে থাকে, পরিশ্রমের কাজ করতে থাকে, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকে বা কোনো ব্যায়াম করছে, এ রকম পরিশ্রমের কাজ করতে গেলে তার শ্বাসকষ্টটা শুরু হয়। ধীরে ধীরে এই শ্বাসকষ্টটা ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

একটি সময় আসে যখন তার বসে থেকেও শ্বাসকষ্ট হয়। এই শ্বাসকষ্টটা ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। এটি ভালো হয় না বা একেবারে কমে যায় না। ক্রমাগত এটা বাড়তে থাকে।


প্রশ্ন : অ্যাজমার কারণে যখন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, সেটি থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

উত্তর : ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগ যাদের তাদেরও শ্বাসকষ্ট হয়, কিন্তু সেই ক্ষেত্রে একটু ভিন্নতা থাকে। যেমন রোগীর শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি থাকে, বুকের ভেতর একটা শাঁ শাঁ করে শব্দ হয়—যেটি সিওপিডিতে সাধারণত হয় না।

আর অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের একটি পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে—অ্যালার্জি বা উত্তেজক। যেসব কারণে রোগীর শ্বাসকষ্টটা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। সেটা দেখা যায় অ্যালার্জি। পারিবারিকভাবেও আসতে পারে।

একে আমরা এটোপিক বলে থাকি। সাধারণত ইতিহাস নিলে রোগীর অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে সঙ্গে তার অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, অর্থাৎ নাক দিয়ে পানি ঝরছে, কনট্রাক্ট ডার্মাটাইটিস বা চামড়ার রোগ থাকে, এক্সিমা—এগুলোর সঙ্গে একটার পর একটা হতে থাকে। পরে তার অ্যাজমা তৈরি হয়।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

প্রশ্ন : এটি প্রতিরোধযোগ্য?

উত্তর : সিওপিডি আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারব। কিন্তু একেবারে নির্মূল করতে পারব না। এই জন্য আমাদের দুটি ধাপ নিতে হবে। একটি হলো রোগের উপসর্গ থেকে বিরত থাকার জন্য কিছু ওষুধের ব্যবহার করতে হবে। আর এটা যেন আর না বেড়ে যায় সেজন্য যে কারণগুলো দায়ী এগুলো ঠিক করা।

যেমন বায়োমাস ব্যবহার করা, গ্রামাঞ্চলে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হয়, তখন বায়োমাস ব্যবহার করা। ধোঁয়া নির্গত কোনো কলকারখানায় সেখানে কিছু সচেতনতামূলক মাস্ক ব্যবহার করা। এভাবে রোগটিকে আমরা আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারি।


প্রশ্ন : অ্যাজমা রোগীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী থাকবে? অনেক সময় আমরা অ্যাজমা রোগীদের দেখতে পাই অ্যাজমায় যারা আক্রান্ত তারা হঠাৎ অ্যাজমা অ্যাটাকের সমস্যায় পড়ে যান। তাদের এই বিষয়গুলো কীভাবে আপনারা দেখেন?

উত্তর : অ্যাজমার ক্ষেত্রে অ্যালার্জি একটি বড় কারণ। এটি শ্বাসকষ্টকে বাড়িয়ে তোলে। এখানে রোগীরও কিছু কিছু জিনিস জেনে রাখতে হবে, কিছু খাবার থেকে তার অ্যাজমাটা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে বা কোনো রাসায়নিক জাতীয় জিনিস বা ধুলাবালি থেকে, আবহাওয়ার যে পরিবর্তন হয়, সে ক্ষেত্রেও কিন্তু অনেক সময় অ্যাজমা হতে পারে।

কারো কারো ক্ষেত্রে বিশেষ করে যাঁরা গৃহিণী রয়েছেন, তাঁরা যখন রান্না ঘরে ঘুম ঝাঁঝালো খাবার রান্না করেন, সেই তীব্র ঝাঁঝালো জিনিসটি অ্যাজমার উত্তেজক হিসেবে কাজ করে। আরেকটি বিষয়, আমরা অনেক সময় তীব্র ঝাঁঝালো পারফিউম ব্যবহার করি, সেই ক্ষেত্রেও অ্যাজমার অ্যাটাক হতে পারে। সেই ক্ষেত্রেও সচেতন থাকতে হবে।


প্রশ্ন : সিওপিডি ও ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা দুটোর ক্ষেত্রেই জটিলতা কী হতে পারে?

উত্তর : একটি বিষয় হলো যেকোনো রোগীর যদি শুরুতেই সঠিকভাবে চিকিৎসা হয়, তাহলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। কিন্তু যদি সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহার করা না হয়, অ্যাজমার ক্ষেত্রে ইনহেলার দিয়ে যে ওষুধটা নেওয়া হয় সেটা যদি না হয়, আস্তে আস্তে রোগীর জটিলতা হয়। সিওপিডি বা অ্যাজমা যদি অনেক লম্বা সময় ধরে থাকে এটি হৃৎপিণ্ডকে আক্রান্ত করে।

তখন হয়তো রোগীর পা ফুলে যায়, প্রস্রাব কমে যায়, রক্তনালি বড় বড় হয়ে যায়। ফুসফুস থেকে পেছন থেকে যখন চাপ দেওয়া হয়, এতে হার্ট ফেইলিউর হয়ে যায়। তাই এটা যদি ঠিকমতো না করা হয়, রোগী জটিল আকার ধারণ করে।

অনেক সময় দেখা যায় অ্যাজমা মৃত্যুর কারণও হয়ে যায়। এই জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা ওষুধটা যেন ঠিকমতো চলে। অ্যাজমা রোগীর ক্ষেত্রে ভালো থাকা সত্ত্বেও বছরে তিন থেকে চারবার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।


প্রশ্ন : কিন্তু এটি কেন?

উত্তর : এতে ফুসফুসকে সঠিকভাবে কাজ করতে দেওয়া, পরবর্তী অ্যাটাক যাতে রোগীর ফুসফুসকে নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য ওষুধ ঠিকমতো নিতে ওই সমস্যাগুলো আর হবে না।


প্রশ্ন : ইনহেলার ব্যবহার করা নিয়ে অনীহা সবার মধ্যে থাকে, তখন রোগীকে আপনারা কীভাবে পরামর্শ দেন?

উত্তর : ইনহেলার তো একটি ডিভাইস। এই ওষুধগুলো সরাসরি শ্বাসনালিতে চলে যায়। এরপর যেখানে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে আছে সেখানে প্রসারিত হয়ে যাচ্ছে। বাতাস সরাসরি যাওয়া-আসা করতে পারে। এই কাজটা খুব তাড়াতাড়ি সরাসরি হচ্ছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম। আগে অবশ্য অনেক ভীতি ছিল।

তবে এখন যেটা আসার কথা রোগীদের জন্য অনেক সুখবর, তারা বিষয়টি বুঝতে চাচ্ছেন। আমরা তাদের সময় নিয়ে পদ্ধতিটা কীভাবে নিতে হয়, সেটা জানিয়ে দিচ্ছি। রোগীদেরও আমরা বলি, আপনারা এসে আমাদের দেখান কীভাবে এটি নিচ্ছেন। এতে করে তাদের উপসর্গগুলো কমিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সূত্র – এনটভি

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে