রোগী নেই রেলওয়ে হাসপাতালে! | হেলথ বার্তা
,
আপডেট

রোগী নেই রেলওয়ে হাসপাতালে!

রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের একেবারে কোনার দিকের বিছানায় শুয়ে আছেন ফয়জুর রহমান। রেলের টিকিট চেকার ছিলেন। ১৫ বছর আগে অবসরে গেছেন। কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই গল্প জুড়লেন, ‘শাবানাকে দেখছিলাম একবার বনানী স্টেশনে। ওই যে রাজ্জাক-শাবানা। প্রথমে চিনি নাই। পরে নিজেই পরিচয় দিল।’ বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা নিয়ে সপ্তাহ দুয়েক ধরে হাসপাতালে ফয়জুর। একই ওয়ার্ডের আরেক কোনায় একজন রোগী আছেন। কথা বলার মতো কেউ নেই। একবার কাউকে পেলে তাই আর ছাড়তে চান না তিনিও।

একই অবস্থা পাশের সার্জারি ওয়ার্ডেও। মুখোমুখি বসে আছেন দুই রোগী রতন প্রতাপ ও জসিমউদ্দীন রাসেল। বহির্বিভাগেও রোগী নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অখণ্ড অবসরে। বহির্বিভাগের সামনে রোগীর বদলে ছোট ছেলেমেয়েরা সাইকেল চালানো শিখছে। আর হাসপাতালের মূল ভবনের বাইরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বসে গল্পগুজব করছে। বাইরের সাইনবোর্ডটা না থাকলে মনে হতে পারে, এটি পুরোনো জেলা শহরের কোনো ডাকবাংলো। হাসপাতালে গতকাল ১৮ জন রোগীর জন্য ছিলেন ১৪ জন চিকিৎসক।

এত সুবিধার পরেও এই হাসপাতালে কেন রোগী আসে না, জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ মানুষ জানেই না, এখানে এত সুবিধার কোনো হাসপাতাল আছে। আবার হাসপাতাল থাকলেও মানুষের ধারণা, এটা শুধু রেলের লোকদের জন্য। এ হাসপাতালে যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা হয়, সেটা কেউ জানে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চায় না বেশি রোগী হাসপাতালে আসুক।

গত বছরের ৩০ এপ্রিল ঢাকার রেলওয়ে হাসপাতালটি নতুন করে উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। সব সরকারি হাসপাতালের মতো সবাইকে সেবা দেওয়া ছিল উদ্দেশ্য। এই প্রেক্ষাপটেই সাড়ে পাঁচ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতাল, ঢাকা’র নাম পরিবর্তন করে ‘রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা’ নামকরণ করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এ বছরের ১১ জানুয়ারি।

তবে হাসপাতালটিতে গিয়ে মনে হয়েছে, শুধু নামফলক লাগানো, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, প্রজ্ঞাপন জারি এবং প্রেষণে ঢাকার বাইরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কিছু চিকিৎসককে নিয়ে আসা ছাড়া তেমন কিছু হয়নি।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

যে পাঁচজনকে প্রেষণে আনা হয়েছে, তার চারজনই আবার স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যার। এখন পর্যন্ত সরকারি ওষুধের সরবরাহ শুরু হয়নি। কিছু কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। রোগনির্ণয়ের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে কোনো রোগী দেখা যায়নি। তবে চিকিৎসক আছেন পর্যাপ্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আগে থেকেই হাসপাতালে সাতজন চিকিৎসক ছিলেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চারজন, শল্যচিকিৎসা বিভাগের একজন এবং তত্ত্বাবধায়ক পদে একজন।

স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকেরা প্রেষণে নরসিংদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হবিগঞ্জ; গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজবাড়ী ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীপুর থেকে এসেছেন।

হাসপাতালে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত আছেন এমন একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, প্রেষণে আসা চিকিৎসকদের মধ্যে শুধু শল্যচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ মো. আজিজুল ইসলাম বহির্বিভাগে নিয়মিত সাধারণ রোগী দেখেন। স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যার চিকিৎসকেরা নিজেদের বিভাগের রোগী কখনো আসলে দেখেন। অস্ত্রোপচার হয় না, কারণ অবেদনবিদ নেই।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক শামিউল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালটি পুরোদমে চালু করতে একটি স্টিয়ারিং কমিটি করা হয়েছে। আশা করছি এ মাসের শেষের দিকে কমিটি বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদেরও বহির্বিভাগে বসানো হয়েছে সব ধরনের রোগী দেখার জন্য।

হাসপাতালটির দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন আহমেদ। তিনি অবশ্য দাবি করেছেন, গড়ে প্রতিদিন ১০০ জন রোগী বহির্বিভাগে আসেন। তিনি নিজেই গতকাল সকালে ৩০ জন রোগী দেখেছেন। আলাউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, হাসপাতালটি অনেক বড় জায়গার ওপর, অনেকগুলো কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। তবে সেগুলোর সংস্কার প্রয়োজন। ২৭টি কক্ষ সংস্কার ও ওষুধ চেয়ে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান।

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে