কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার কারণ কি? কোষ্ঠকাঠিন্যর লক্ষণ ও প্রতীকার সম্পর্কে জেনে নিন | হেলথ বার্তা
,
শিরোনাম

কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার কারণ কি? কোষ্ঠকাঠিন্যর লক্ষণ ও প্রতীকার সম্পর্কে জেনে নিন

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি অস্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা যখন একজন ব্যক্তি সহজে মলত্যাগ করতে সক্ষম হন না। সাধারণত এক-দুই দিন পরপর মলত্যাগের বেগ হওয়া এবং শুষ্ক ও কঠিন মল নিষ্কাশন কোষ্ঠকাঠিন্য বলে পরিচিত।

কারণ-

কোষ্ঠকাঠিন্যর বেশকিছু কারণ রয়েছে। যেমন-

  • খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণ : কম আঁশযুক্ত খাবার খেলে অনেক শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে পারে। গরুর দুধ খেলেও অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
  • শারীরিক ত্রুটি : অ্যানোরেকটাল স্টেনোসিস বা মলদ্বার জন্মগতভাবে বন্ধ থাকলে।
  • স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটি
  • স্নায়ুর সমস্যা বা সেরেব্রাল পলসি থাকলে।
  • জন্মগতভাবে পেটের সামনের মাংস না থাকলে।
  • শরীরের শক্তি কমে যাওয়া বা হাইপোটনিয়া হলে।
  • হাইপোথাইরয়েডিজম হলে।
  • বহুমূত্র রোগ হলে।
  • শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে।
  • রেনাল টিউবুলার অ্যাসিডোসিস হলে।

লক্ষণ –

কোষ্ঠকাঠিন্য শনাক্ত করা কোন কঠিন বিষয় নয়। এই সমস্যায় সচরাচর যে লক্ষণগুলি দৃষ্টিগোচর হয় সেগুলি হলো: মল শুষ্ক, শক্ত ও কঠিন মল, মলত্যাগে অনেক বেশি সময় লাগা, মল ত্যাগের জন্য অনেক বেশি চাপের দরকার হওয়া, অধিক সময় ধরে মলত্যাগ করার পরও অসম্পূর্ণ মনে হওয়া, মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথা অনুভব, এবং প্রায়ই আঙুল, সাপোজিটরি বা অন্য কোনো উপায়ে মল নিষ্কাশনের প্রচেষ্টা।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা না করা হলে কিছু সমস্যা হতে পারে, যেমন –

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)
  • মল ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে
  • এনালফিশার
  • মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা
  • মানসিকভাবে অশান্তি
  • খাদ্যনালিতে প্যাঁচ লেগে পেট ফুলে যেতে পারে
  • খাদ্যনালিতে আলসার বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় –

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রেহাই লাভের উদ্দেশ্যে অনেকে মল নরম করার ঔষুধ ব্যবহার করেন যেমন ল্যাক্সেটিভ। এছাড়া মলদ্বারের ভেতরে দেওয়ার ঔষুধ আছে। এসব ঔষধের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারে স্বাভাবিকবাবে মলত্যাগের অভ্যাস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণ অপসারণের ওপর জোর দেয় হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে ইসবগুল বা ভূসি ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে চিনি বা গুড়সহ নিয়মিত খালি পেটে সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পদ্ধতি গ্রামে-গঞ্জে দীর্ঘকাল যাবৎ চালু আাছে।

এছাড়া মিষ্টি পাকা বরই চটকে খোসা ও বীজ ফেলে অথবা ছেঁকে অল্প পানি মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের উপশম হয়। বেলের সরবতও উপকারী। ৩০-৩৫ গ্রাম পাকা বেলের শাঁস প্রতিবারে ১ গ্লাস পানিতে শরবত তৈরী করে দিনে ২ বার সেবন করতে হয়।

এভাবে কমপক্ষে ৫-১০ দিন বেলের সরবাত পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। বুচকি দানাও উপকারী। ২ গ্রাম পাতা চূর্ণ রাতে ঘুমানোর সময় গরম পানি অথবা দুধসহ সেবন করতে হবে। খারাপ লাগলে দই খেতে হয়। এছাড়াও –

  • বেশি করে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খান
  • বেশি করে পানি পান করুন
  • দুশ্চিন্তা দূর করুন
  • যাঁরা সারা দিন বসে কাজ করেন, তাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করুন

 

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে