,
আপডেট

যেসব শারীরিক সমস্যা হতে পারে অতিরিক্ত ‘ফ্যাট’ গ্রহণে

ফ্যাটজাতীয় খাবারের প্রতি মানুষ বরাবরই একটু বেশি দুর্বল। তেল, ঘি, মাখন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার হয় সুস্বাদু। শুধু কি তাই? তেল, ঘি আর মাখন খেলে শরীর হয় হৃষ্ঠপুষ্ট, ত্বকে আসে লাবণ্য।

ফ্যাট বা স্নেহ পদার্থের প্রধানতম কাজ তাপ ও শক্তি উত্‍পন্ন করে দেহকে কর্মক্ষম রাখা। সেই সঙ্গে দেহে সঞ্চিত হয়ে এক ধরনের প্যাডিং বা ইনসুলেশনের কাজ করা।

ফ্যাট গ্রহণের স্বাভাবিক প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু এ নিয়ে প্রধান ভ্রান্ত ধারণাটি হলো, দেহকে সুষ্ঠুভাবে সুস্থ রাখতে নিয়ম করে তেল, ঘি, মাখন ইত্যাদি ফ্যাট খাওয়া। এই পরিপ্রেক্ষিতে দুটি বিষয় আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন।

প্রথমত, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় যে কী উদ্ভিজ্ঞ, কী প্রাণিজ – এমন কোনো খাদ্যবস্তু মানুষের নেই যা সম্পূর্ণ ফ্যাট বিবর্জিত। যদি আহার্য হিসেবে বেছে নেন শুধু খাদ্যশস্য, শাকসবজি আর ফলমূল তাহলেও ওইসব খাদ্যের অন্তর্গত ফ্যাট থেকে আপনি পাবেন মোট ক্যালরির ৫-১০ শতাংশ।

দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় তাপ ও শক্তির জন্য যতটুকু ফ্যাট দরকার তা নিরামিষ খাদ্য থেকে দেহ নিজেই সেই পরিমাণ ফ্যাট তৈরি করে নিতে পারে। পারে না শুধু লিনোলেইক আর দু ধরনের অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড (essential fatty acids) তৈরি করতে।

তাই ফ্যাট বর্জনে প্রধান সমস্যা দাঁড়ায় শুধুমাত্র লিনোলেইক অ্যাসিড সরবরাহ নিয়ে। কিন্তু দেহের পক্ষে এই ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজন এতই অল্প যে যথেষ্ট ক্যালরিসম্পন্ন যেকোনো খাবার থেকেই তা পাওয়া যেতে পারে।

পুষ্টি বিজ্ঞানের গবেষণায় জানা গেছে যে, লিনোলেইক অ্যাসিডের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা মাথাপিছু দৈনিক মাত্র ২.৮ গ্রাম। এবং এ প্রয়োজন পূরণের জন্য তেল, ঘি ইত্যাদি ফ্যাট-সর্বস্ব খাদ্যগ্রহণ শুধু অহেতুক নয়, রীতিমতো ক্ষতিকারক। জেনে নিন অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণের কিছু বিপত্তি।

অক্সিজেন সঙ্কট –

সব ধরনের ফ্যাট-সর্বস্ব খাদ্য রক্তের লোহিত কণিকা এবং প্লেটলেট-এর চারপাশে একটা ফ্যাটি ফিল্ম-এর সৃষ্টি করে। এর ফলে কণিকাগুলো জমাট বেঁধে যায়। আর এই জমাটবাঁধা অবস্থায় এরা নিজের নিজের কাজ সঠিকভাবে করতে পারে না।

তার ওপর জমাট বাঁধার ফলে ধীরে ধীরে রক্তবাহী ক্যাপিলারিগুলো প্রায় রূদ্ধ হয়ে অবশেষে একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এবং এই ক্যাপিলারি ব্লকেজের অর্থ ৫-২০% রক্তপ্রবাহ অচল হয়ে পড়া।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

এভাবে অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণের পাশাপাশি ব্যক্তি যখন ধূমপান করে, তখন অবস্থা আরো ভয়ানক হয়ে ওঠে। একে তো অতিরিক্ত ফ্যাট, তার ওপরে ধূমপানের মাধ্যমে বিষাক্ত কার্বন-মনোক্সাইড – এই দুটি মিলে রক্তে অক্সিজেন যাতায়াতের পথ একরকম বন্ধ করে দেয়।

রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ক্রমাগত কমে যাওয়ার ফলে দেহের টিস্যুগুলো তাদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। অক্সিজেন সঙ্কটে টিস্যুর এ অবস্থাকে বলে Tissue anoxia।

কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি –

কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির অনিবার্য ফল হলো প্রাণনাশক হৃদরোগ ও ধমনীসংক্রান্ত রোগ আর সেই সঙ্গে পিত্তপাথরী। এ পর্যন্ত যত রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে তাতে এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত যে ঘি, মাখন, চর্বি ইত্যাদি সব ধরনের প্রাণিজ ফ্যাট-ই কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি –

অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণের সঙ্গে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির যে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, তা সাম্প্রতিক বহু গবেষণাতেই প্রমাণিত হয়েছে। আর এই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহে বাত ও আরথ্রাইটিসের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

ডায়াবেটিসের আক্রমণ –

পুষ্টিতাত্ত্বিকরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্রাবে প্রচুর সুগার থাকছে – তার মানে এই নয় যে রোগীর দেহে ‘সুগার’ আর সহ্য হচ্ছে না। প্রস্রাবে সুগার থাকার কারণ দেহ আর ওই সুগারকে প্রয়োজনীয় কাজে লাগাতে পারছে না।

কেননা রক্তে উপস্থিত অতিরিক্ত ফ্যাট দেহকে সুগার থেকে তাপশক্তি নেয়ার কাজে বাধা দিচ্ছে। ফ্যাটজাতীয় খাদ্য অতিরিক্ত গ্রহণে দেহের স্বাভাবিক মেটাবলিজম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ফলেই দেহে ‘রাসায়নিক ডায়াবেটিক দশা’ বা ‘Chemical Diabetic State’-এর সৃষ্টি হয়।

ক্যান্সারের ঝুঁকি –

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ফ্যাট গ্রহণের সঙ্গে নিশ্চিতভাবে মলাশয়ের ক্যান্সার (colon cancer)-এর সম্পর্ক আছে। পরিসংখ্যানে আরো জানা যায় যে শুধু মলাশয়ে ক্যান্সারই নয়, নারীদের স্তন ক্যান্সারের পেছনেও অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণ অনেকাংশে দায়ী।

সৌজন্যে – প্রিয়.কম

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply