,
আপডেট

জেনে রাখুন মাইগ্রেন প্রতিরোধে উপযুক্ত খাওয়াদাওয়া সম্পর্কে

মাইগ্রেনের সমস্যায় কপালের অর্ধেক অংশ জুড়ে মাথা ব্যথা হয়। মাথা ধরার সাথে সাথে বমিভাব থাকে। মাইগ্রেনের অন্যতম লক্ষণ হল আলো ও জোরে আওয়াজ সহ্য করতে অসুবিধা হয়। মাইগ্রেন তাড়াতাড়ি কমে যায় না, সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে ৩ দিন অবধি এর প্রকোপ বজায় থাকে।

অনেক সময় বিশেষ কোন খাবার, পাউডার বা পারফিউমের উগ্র গন্ধ, সিগেরেটের ধোঁয়া, স্ট্রেস, অতিরিক্ত কম ঘুম, বা খুব গরম বা ঠাণ্ডা থেকেও মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। কয়েক ধরণের খাবার মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

কী ধরণের খাবার খেতে পারেন –

১। ব্রাউন রাইস, ব্রাউন রাইসের নানা ধরণের রেসিপি ট্রাই করুন।

২। খেজুর, অন্যান্য ফল।

৩। সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের সবজি। ( রান্না করা )

৪। পানি, হার্বাল টি। হার্বাল টি এর মধ্যে বেছে নিতে পারেন গ্রিন টি, জিঞ্জার টি।

৫। অল্প পরিমানে অন্যান্য লবণ ও মশলা খেতে পারেন।

কী ধরণের খাবার এড়িয়ে চলবেন –

১। ডেয়ারি প্রডাক্ট। (মাখন, দুধ)
২। চকোলেট

৩। ডিম, মাংস

৪।  টমেটো ও সাইট্রাস জাতীয় ফল খাবেন না।

৫। গম জাতীয় খাবার যেমন- রুটি, পাস্তা, ব্রেড ইত্যাদি।

৬। বাদাম, পেঁয়াজ, আপেল, কলা

৭। কফি, চা , সফট ড্রিংক্স কম পরিমানে খান। ঠাণ্ডা পানীয় খাওয়ায় আগে ভাল করে লেবেল চেক করে নিন। মেনোসোডিয়াম, গ্লুটামেট, নাইট্রাইট রয়েছে এরকম পানীয় এড়িয়ে চলুন।

দুই সপ্তাহের টেস্ট –

মাইগ্রেনের সমস্যা কমাতে প্রথমে খেয়াল রাখুন যে ধরণের খাবার খেলে সাধারণত মাইগ্রেন হয়, সেগুলো খেলে আপনার অসুবিধা হচ্ছে কিনা। অসুবিধে হলে এই ধরণের খাবারের পরিবর্তে উপযোগী খাবার খেতে শুরু করুন।

১। প্রথম ২ সপ্তাহ পেইন-সেফ ফুড যথেষ্ট পরিমাণে খেতে পারেন।

২। যে ধরণের খাবার থেকে মাইগ্রেনের সমস্যা হতে পারে সে ধরণের খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন।

৩। কমন ট্রিগার ফুডের তালিকার বাইরে খাবার খেতে পারেন।

৪। এই সময়ে কোন বেলার খাবার বাদ দেবেন না। সময় মতো ঘুমাবেন। ব্রেকফাস্ট মিস করবেন না। কারণ অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫। গম জাতীয় খাবার কমন ট্রিগার ফুডের তালিকার মধ্যে থাকলেও রুটি বা পাস্তা খেতে পারেন।

৬। দুই সপ্তাহের টেস্টে যদি মাথাব্যথা কম থাকে তাহলে কমন ট্রিগার ফুডের তালিকা থেকে কয়েকটা খাবার খেতে শুরু করুন। দু’দিন পর পর এই ধরণের খাবার খেতে পারেন।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

৭। কমন ট্রিগার ফুড খেতে শুরু করার ফলে সমস্যা হলে এই ধরণের খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। এর ২ সপ্তাহ পরে আবার এই ধরণের খাবার খেতে শুরু করুন। এই সময়ে সিম্পল ডায়েট মেনে চলুন। যাতে এই ধরণের খাবার থেকে সমস্যা হচ্ছে যাতে সেটা বোঝা যায়।

৮। মাংস ডেয়ারি প্রডাক্ট ও দিম এড়িয়ে চলুন। এই ধরণের খাবার মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে ও ন্যাচারাল হরমোন ব্যালেন্স ডিস্টার্ব করে।

অন্যান্য টেস্ট –

টু উইক টেস্টেও মাইগ্রেনে সমস্যা না কমলে কমন মাইগ্রেন ট্রিগার ফুডের বাইরে অন্য কোনও খাবার থেকে সমস্যা হচ্ছে কিনা দেখুন। সে ক্ষেত্রে সিম্পল এলিমিনেশন ডায়েট মেনে চলুন। পেন-সেফ ফুড দিয়ে শুরু করুন। তারপর আগের পদ্ধতি অনুযায়ী ডায়েট মেনে চলুন।

১। কমন ট্রিগার ফুড খাওয়ার ৩-৬ ঘণ্টার মধ্যে মাইগ্রেনের অ্যাটাক হতে পারে।

২। অনেকসময় ট্রিগার ফুড খুব কম পরিমাণে খেলে মাইগ্রেনের অ্যাটাক নাও হতে পারে। একই খাবার বেশি পরিমাণে খেলে মাইগ্রেনের অ্যাটাক হতে পারে।

৩। একাধিক খাবারের থেকে মাইগ্রেনের অ্যাটাক হলে যে কোনও একধরণের খাবার বাদ দিলেই সমস্যা মিটবেনা।

৪। শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারের থেকে রিঅ্যাকশনের প্রকোপও কমতে বা বাড়তে পারে। যেমন এমনি সময়ে চকোলেট বেশি পরিমাণে খেলে কোন সমস্যা নাও হতে পারে।

কিন্তু পিরিয়ডের আগে একটা চকোলেট খেলেও মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা যেতে পারে। এর কারণ প্রতিমাসে হরমোনের যে স্বাভাবিক পরিবর্তন হয় , সে আরও সেনসেটিভ হয়ে পড়ে।

৫। ফুড সেনসিটিভিটি টেস্ট করাতে পারেন।

ঘরোয়া উপায়ে সমধান –

১। আদার রস বা আদার টুকরো খেতে পারেন। দিনে ২ বার আদার পাউডার পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

২। ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন ব্রাউন রাইস, বার্লি, সবুজ শাকসবজি, বিশেষত পালং শাক নিয়মিত খান।

৩। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি মাইগ্রেন প্রতিরোধে সাহায্য করে। তিল, রাগি আটা, বিট, সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে।

৪। রোদে ১০ মিনিট থাকতে পারলে ভাল হয়। সম্বভ না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। মেনোপজের সময় ইস্ট্রোযেন হরমোনের ভারসাম্যের অভাবের কারণে অনেক সময় মাথা ধরে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান। লো-ফ্যাট ডায়েট মেনে চলুন।

বিশেষ টিপস –

১। এই সময় ডাক্তারের পরামরশু অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে ভুলবেন না।

২। মাইগ্রেনের সমস্যা অত্যাধিক বেড়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন।

৩। মাইগ্রেনের সমস্যায় মেডিটেশন বা এক্সারসাইজ করার আগে অভিজ্ঞ ফিটনেস ট্রেনারের পরামর্শ নেবেন।

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply