,
আপডেট

জ্বর- অসুখ, নাকি অসুখের লক্ষণ?

জ্বর একটি উপসর্গ মাত্র, মূল রোগ নয়। জ্বরের কারণ নানাবিধ। যখন মুখের তাপমাত্রা ৯৮.২ + ০.৭ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি হয় তখন তাকে আমরা জ্বর বলি। আবার তাপমাত্রা এই নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে বলে ‘হাইপোথার্মিয়া’।

জ্বর কেন হয়? একটু গা গরম হলেই কি তাকে জ্বর বলা যায়? দিনের বিভিন্ন সময়ে  বাড়ে, আবার কমেও যায়। আসলেই জ্বর হয়েছে কিনা বুঝতে হলে আগে জানতে হবে কোন অবস্থায় “জ্বর” আছে, কোন অবস্থায় নেই সেইটা বুঝতে হবে।

দিনের বিভিন্ন সময়ে শরীরের তাপমাত্রার পার্থক্য-

সকাল ৬টা থেকে ৮টার ভিতর শরীরের তাপমাত্রা থাকে অপেক্ষকৃত কম। আবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে টেম্পারেচার নিলে দেখা যায় তখন তাপমাত্রা থাকে একটু বেশি। সুতরাং সকালের দিকের তাপমাত্রা যদি ৯৮.৯ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি হয় তখনই তাকে বলা হবে জ্বর এবং বিকেলের দিকের তাপমাত্রা যদি ৯৯.৭ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি হয় তবেই বলা যাবে জ্বর এসেছে।

এক্ষেত্রে একটা কথা বলা ভাল যে, ছোট বাচ্চাদের মুখগহ্বরের তাপমাত্রা নেওয়া যায় না, প্রয়োজনে rectal তাপমাত্রা নিতে হয়। আর সেই তাপমাত্রা ওরাল তাপমাত্রার যে ০.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি। বগলের তাপমাত্রার নানা কারণে অদলবদল হয় যেমন ঘাম বা হয়ত ঠিকমত নেওয়া হল না ইত্যাদি। এই তাপমাত্রা মুখের তাপমাত্রার চেয়ে ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট কম থাকে।

ডিউরেনাল ভেরিয়েশন অর্থাৎ দিনের বিভিন্ন সময়ে শারীরিক তাপমাত্রার যে স্বাভাবিক পরিবর্তনের কথা বলা হল তা কিন্তু যৌবনকালে বেশি পরিলক্ষিত হয়। বৃদ্ধবয়সে এই তফাত আবার কমে আসে। শারীরিক তাপমাত্রার নানা পরিবর্তন এবং অবশ্যই জ্বর নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্কের থার্মোরেগুলেটারি সেন্টার থেকে।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

মেয়েদের ক্ষেত্রে আবার পিরিয়ডের ২ সপ্তাহ আগে থেকে শরীরের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়ে। পিরিয়ড শুরু হলে তাপমাত্রা আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। খুব বেশি খাওয়াদাওয়া করলে বডি হিট বাড়ে, তাপমাত্রাও বাড়ে। তবে তা সাময়িক এবং তার জন্য চিকিৎসার দরকার পড়ে না।

জ্বরে শরীরের কী কী পরিবর্তন হয়?

জ্বর হলে শরীরের মধ্যে সাইটোকাইন নামে এক প্রোটিন নিঃসৃত হতে শুরু করে, এটা এক ধরনের প্রতিরক্ষা পদ্ধতি, এর কারণ ইনফেকশন বা অ্যালার্জি হতে পারে। এদের বলে ‘পাইরোজেনিক সাইটোকাইন’। শরীরে সংক্রমণ হলে এই পাইরোজেনিক গিয়ে বিভিন্ন সাইটোকাইনের নিঃসরণ ঘটায়।

ইনফেকশনজনিত জ্বরের পাইরোজেনের প্রকৃতি যেমন হবে, ভ্যাকসিনেশন-জনিত জ্বরের পাইরোজেনের প্রকৃতি হবে তার থেকে আলাদা। সাইটোকাইন হাইপোথ্যালামাস গ্রন্থির থার্মোরেগুলেটারি সেন্টারকে বিশৃঙ্খল করে দেয় আর তখনই প্রস্টাগ্ল্যানডিন বেরিয়ে এক দিকে করে হিট প্রোডাকশন, অন্যদিকে করে হিট কনসারভেশন, তাতেই বাড়ে তাপমাত্রা।

এর ফলে রক্তবাহী নালিগুলি একাধারে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হয়। তাতে শরীরের তাপ যেমন বেড়ে যায়, তেমনই আবার শীত করে ও কাঁপুনি হয়, তারপরেই ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যায়। জ্বর কত সময়ের মধ্যে কত বেড়ে যাবে তা নির্ভর করে সংক্রমণের তীব্রতা ও প্রদাহের ধরনের ওপর।

জ্বর হওয়াটা একটা প্রতিরক্ষামূলক ব্যাপার। সাধারণ পূর্ণবয়স্ক মানুষ, যার শরীরে আছে স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা, তার মধ্যে কোনও ব্যাধির লক্ষণ হিসাবে জ্বর তাড়াতাড়ি প্রকাশিত হয়।

আবার খুব বয়স্ক লোকের হয়ত খুব বড় রকমের সংক্রমণ হল কিন্তু জ্বর হল না। অথচ ব্লাড রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ইনফেকশন আছে। কিন্তু জ্বর হয়নি বলে ধরা যায়নি, ততদিনে শরীরের হয়ত বড়সড় কোনও ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply