PGAD- চিরস্থায়ী যৌন উত্তেজনার এক ভয়াবহ রোগ! | হেলথ বার্তা
,
শিরোনাম

PGAD- চিরস্থায়ী যৌন উত্তেজনার এক ভয়াবহ রোগ!

যৌনতায় অরগ্যাজম বা রাগমোচন সব নারীরই একটি অতি কাম্য বিষয়। এটি ছাড়া যে কখনই যৌন পরিতৃপ্তি পাওয়া সম্ভব না তা কমবেশি সবারই জানা। অনেক নারীরই আবার এই অতৃপ্তির জন্য আক্ষেপের সীমা নেই। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের এই অতৃপ্তির কারণ হয় তাদের স্বামী বা পুরুষ সঙ্গীটি।

আমাদের উন্নয়নশীল দেশের রক্ষণশীল সমাজব্যাবস্থায় নারীর যৌনতার বিষয়টিকে এখনও একটি অস্বস্তিকর বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অশ্লীল বিষয় হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

অনেক সচেতন নারী এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে চাইলেও পারিপার্শিক পরিস্থিতি তার কন্ঠ অবরুদ্ধ করে দেয় প্রায় সব সময়েই। বলাই বাহুল্য এতে করে কোন লাভ তো হচ্ছেই না বরং নানা সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের মত ঘটনা ঘটছে প্রতি নিয়ত। পশ্চিমা বিশ্বে নারীরা আমাদের দেশের নারীদের মত দুর্দশাগ্রস্ত নয়। সে দেশের নারীরা নিজেদের সকল অধিকার ও যৌনতা সম্পর্কেও সতর্ক ও সোচ্চার।

তবে ফ্লোরিডার স্প্রিং হিল নিবাসী গ্রেটচেন মোলানেন ততটা প্রচার উন্মুখ ছিলেন না তার এক বিশেষ যৌন অস্বাভাবিকতার বিষয়ে! গ্রেটচেন এক বিশেষ শারীরবৃত্তিয় অবস্থার স্বীকার ছিলেন যার ফলশ্রুতিতে তার যৌন উত্তেজনা ছিল চিরস্থায়ী, এর নাম দেয়া হয় Persistent Genital Arousal Disorder (PGAD).

দিনে ৫০ বার অরগ্যাসম অনেকের কাছে হয়ত যৌন ফ্যান্টাসি, কিন্তু বাস্তব জীবনে তা কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা জানতেন গ্রেটচেন। মাত্র ২৩ বছর বয়েসে একদিন হঠাৎ করেই সুইচ অন হবার মত মারাত্মকভাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গ্রেটচেন।

গ্রেটচেন তার এক সাক্ষাতকারে বলেন,”এই উত্তেজনার কোন শেষ নেই, এটি কখনও থামে না,একটি অরগ্যাসম আপনার মাঝে আরেকটি অরগ্যাসমের জন্য প্রচন্ড কামনার তৈরি করবে যেন তা অনেক আগে থেকেই তৈরি হয়ে আছে, এবং তারপর আরেকটা, আর এভাবেই চলতেই থাকবে!

মানে আমার সবচেয়ে বাজে রাতে এভাবে ৫০ বার একটানা ঘটে! আমি পানি খাবার জন্য পর্যন্ত একটু থামতে পারিনি! আমার সারা গায়ে ব্যাথা করছিল,ঘামে ভিজে গিয়েছিল দেহের প্রতিটি অংশ!”

এই অদ্ভুত রোগের কারণে গ্রেটচেনের শরীর কখনও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকত না, তিনি সার্বোক্ষণিক প্রবলভাবে কামার্ত অনুভব করতেন কোন কারণ ছাড়াই। এই বিচিত্র রোগের কারণে কোন পুরুষের সাথে তার পক্ষে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা সম্ভব ছিল না, কোন কাজ তিনি মনোযোগ দিয়ে করতে পারতেন না ফলে তার চাকরি করাও সম্ভব হয়ে ওঠে নি।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

তাকে তার এই রোগের কারণে সরকারিভাবে অক্ষমতা ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি এক আত্মমর্যাদাপূর্ণ নারী হওয়ায় এই ভাতা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তার প্রেমিক তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতেন এবং তার পাশে থাকতেন কিন্তু তাদের যৌনজীবন ছিল অনেক যন্ত্রনাময়।

নিজের এই দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে তিনি একবার ঘন্টাব্যাপী হস্তমৈথুন করেন, তবে সাময়িক আনন্দ মুহুর্তেই উবে যায় যখন তিনি একটু পরেই আবারো আগের মতই উত্তেজিত হয়ে পড়েন! তবে গ্রেটচেন এই পথ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন কারণ ধর্মীয় মূল্যবোধ তার ভেতরে যথেষ্ট পরিমানে ছিল।

গ্রেটচেন তার এই অবস্থার কথা কারও সাথে আলাপ করতে চাইতেন না। এমনকি পুরো ২ সপ্তাহ তিনি কোন ডাক্তারের কাছেও যান নি। রোগাক্রান্ত হওয়ার পর ১৬ বছরে তিনি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার ডাক্তাররা তার এই অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি প্রদানের কোন কার্জকর উপায় বাতলে দিতে পারেন নি।

তারা তাকে দুগ্ধস্নান ও বরফের ব্যাগ ব্যাবহার করার পরামর্শ দেন,কিন্তু তাতে কোন ভাল ফল পাওয়া যায় নি। PGAD-এর ক্ষেত্রে যৌনমিলন বা অন্যান্য যৌন কর্মকান্ডের মাধ্যমে অরগ্যাজমের পরেও যৌন উত্তেজনা ঘন্টার পর ঘন্টা এমনকি দিনব্যাপী স্থায়ী হতে পারে।

এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অবসন্নতারোধী (antidepressants) ও খিঁচুনীরোধী (anticonvulsants) ঔষধের এমনকি বোটক্স (Botox- Botulinum Toxinএর সংক্ষিপ্ত রূপ, বটুলামিন নামক ব্যাক্টেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট মারাত্মক বিষ বা টক্সিন দ্বারা এটি তৈরি হয়) ইঞ্জেকশনের পর্যন্ত পরামর্শও দেয়া হয়, কিন্তু কিছুই কোন দীর্ঘস্থায়ী কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারেনা।

PGAD-এর কোন কারণ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। মাত্র ২০০১ সালে এ রোগ সম্পর্কে প্রথম ধারনা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা স্নায়ুর বৈকল্যতার (Nerve Dysfunction) কারণেই হয়তো এমনটা ঘটে। এখন পর্যন্ত একে কোন রোগ হিসেবেও সেভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয় নি। অনেক ডাক্তার এ রোগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

ধীরে ধীরে গ্রেটচেন মারাত্মক একা হয়ে পড়েন। অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই অভিশপ্ত জীবনের অবসান ঘটানোর!

মৃত্যুর আগে তিনি তার জীবনের কঠিন সত্য সবার সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে করে তার মত কোন অভাগী নারী নিজের জীবনের এই ভয়ঙ্কর পরিণতি নীরবে নিভৃতে বয়ে না বেড়ায় আর এর কোন প্রতিকার খোঁজা সম্ভব হয়। তিনি Tampa bay Times ম্যাগাজিনে তার একটি আত্ম বিবরণী প্রদান করেন।

অবশেষে দীর্ঘ ১৬ বছর এই বিচিত্র মনদৈহিক রোগের সাথে লড়াই করার পর ২০১২ সালের ১লা ডিসেম্বর, মাত্র ৩৯ বছর বয়েসি এই নারী শেষবারের মত আত্মহননের চেষ্টা করে সফল হন আর তার নিজের এই অভিশপ্ত জীবনের অবসান ঘটান।

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে