পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্লিডিং প্রতিরোধের ঘরোয়া উপায় | হেলথ বার্তা
,
আপডেট

পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্লিডিং প্রতিরোধের ঘরোয়া উপায়

অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়াকে চিকিৎসাবিদ্যায় menorrhagia বলা হয়। অতিরিক্তি ব্লিডিং হওয়ার সমস্যায় কিছু পরিচিত কারণ ও লক্ষণ দেখা যায় যেমন- পিরিয়ড হলে তা ৭ দিন পর্যন্ত থেকে যায় এবং অতিরিক্তি ব্লিডিং হওয়ার কারণে ২ থাকে ৩ ঘণ্টা পর পর প্যাড পরিবর্তন করতে হয়, ব্লিডিং এর সাথে জমাট রক্ত বের হয়, পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা থাকে, ক্লান্ত দেহ, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, মেজাজে পরিবর্তন এবং চরম দুর্বলতা।

এই সমস্যাগুলো যেকোন বয়সের নারীদেরই হতে পারে বিশেষ করে যাঁদের পিরিয়ড সবে শুরু হয়েছে এবং নারীদের মেনোপজ হওয়ার আগেও পিরিয়ডের সময় অতিরিক্তি ব্লিডিং-এর সম্মুখীন হতে হয়। যাঁদের ওজন অনেক বেশি, কিছু ওষুধ যেমন- blood thinners পিল, এবং বংশগত কারণেও অতিরিক্তি ব্লিডিং হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়ার আরও কিছু কারণ আছে যা হল- দেহের হরমোনের ইমব্যালেন্স, জরায়ুতে টিউমার, জরায়ুতে পলিপ, গর্ভপাত বা গর্ভাবস্থায়, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল সেবনের কারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এই সমস্যা আরও দেখা দিতে পারি যদি নারীর adenomyosis, pelvic inflammatory অসুখ থাকে।

অতিরিক্তি ব্লিডিং দেহের পাশাপাশি প্রতিদিনের কাজকর্মেও বাঁধা প্রদান করে, মানসিক ভাবে ও সামাজিক জীবন হতাশাগ্রস্থ করে তোলে। অতিরিক্ত ব্লিডিং এর সমস্যা দেখা দিতে পারে আরও একটি কারণে যদি দেহে আয়রনের অভাব থাকে এবং অ্যানিমিয়া (রক্তশূন্যতা) রোগ থাকে।

অতিরিক্তি ব্লিডিং এর কঠিন সমস্যায় অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। এবং আপনি চাইলে এই সমস্যার সমাধান ঘরে বসেই করতে পারেন। চলুন তাহলে জেনে নিই এই সমস্যার কিছু সমাধান।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

পিরিয়ডের সময় অতিরিক্তি ব্লিডিং হলে আপনি অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি দেহে টনিক হিসেবে কাজ করে যা দেহ হতে টক্সিন বের করে দেয় এবং হরমোন এর ভারসাম্য নিয়ন্ত্রনে রাখে। এছাড়াও আরও কিছু শারীরিক লক্ষন যেমন- পেটে ব্যথা, মাথা ব্যথা, বিরক্ত ও ক্লান্তির সময় অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খুব কার্যকরী।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

১। এক গ্লাস পানিতে ১/২ চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে খেয়ে নিন।

২। ভালো ফলাফল পেতে পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্লিডিং সমস্যায় প্রতিদিন ৩ বার এই পানীয়টি পান করুন।

লাল মরিচ গুঁড়ো

অতিরিক্ত ব্লিডিং এর সমস্যায় পরিত্রাণ পেতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন লাল মরিচ গুঁড়ো। এটি দেহের রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রনে রাখে, হরমোনের ইমব্যালেন্স সমস্যা রোধ করে এবং অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়ার লক্ষণগুলোও প্রতিরোধ করে।

১। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১/২ চামচ লাল মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন।

২। সামান্য মধু মিশিয়ে নিন।

৩। পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্লিডিং সমস্যায় এই পানীয়টি ২/৩ বার পান করুন।

৪। আপনি চাইলে পিরিয়ডের এই সমস্যায় লাল মরিচের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি ওষুধ খেতে পারেন কিন্তু অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার

নারীদেহের জন্য আয়রন খুব গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল উপাদান যা নারীর অতিরিক্ত ব্লিডিং সমস্যা রোধ করতে সাহায্য করে এবং এটি দেহের এনিমিয়া (রক্তশূন্যতা) সমস্যাও রোধ করতে সহায়ক।

১। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- গাঢ় সবুজ শাকসবজি, শিম, কুমড়ার বীজ, ডিমের কুসুম, কলিজা, লাল মাংস, কিশমিশ, আলুবোখারা ইত্যাদি।

২। আপনি চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আয়রন সমৃদ্ধ ওষুধ খেতে পারেন।

দারুচিনি গুঁড়ো

পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহের সমস্যায় দারুচিনি গুঁড়ো খুব উপকারী।

১। এক গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। কিছুটা ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিন। পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে প্রতিদিন ২ বার পান করুন।

২। দারুচিনি গুঁড়োর তেল ১৫-৩০ ফোঁটা এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন ৩ বার পান করুন।

৩। এই উপায়টি শুধুমাত্র পিরিয়ডের সময় পালন করুন।

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে