,
আপডেট

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মাইক্রোস্কপি পরীক্ষা

ব্র্যাক’র একটি জরিপের বরাত তিনি আরো জানান, খাগড়াছড়ির বর্তমান জনসংখ্যা ৬১৩৯১৭ জন। এই বৃহৎ জনসংখ্যাকে যক্ষ্মা থেকে নিরাপদ রাখার জন্য ২৮টি ল্যাবরেটরি ও ৪৬৪টি কফ সংগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যমে ২০৪ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ২২৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর (ব্র্যাক ), ১০৭৫ জন স্বাস্থ্য সেবিকা কাজ করছে।

ব্র্যাক জুনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট (ল্যাব) ফুলরাণী চাকমা জানান, মাইক্রোস্কপের মাধ্যমে কফ পরীক্ষাই যক্ষ্মার প্রথম এবং প্রধান পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় রোগী পজিটিভ হলে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ব্র্যাক কর্তৃক রোগীর ফ্রি চিকিৎসা শুরু হয়।  তিনি আরও জানান, যদি স্ফুটাম নেগেটিভ হয় এবং যক্ষ্মার লক্ষণ থাকে তাহলে এক্স-রে’র মাধ্যমে ফুসফুসের যক্ষ্মা পরীক্ষার জন্য রোগীকে ডাক্তারের কাছে রেফার করা হয়।

এই পরীক্ষায় পজিটিভ হলেও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ব্র্যাক স্বাস্থ্য সেবিকার নিবিড় তত্ত্বাবধানে রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়। ৬ মাস নিয়মিত ওষুধ সেবন করলেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।

সিভিল সার্জন ডা. নারায়ণ চন্দ্র দাশ জানান, যক্ষ্মা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। যক্ষ্মা ধরা পড়ার পর ওষুধ খাওয়া শুরু করলে ২ সপ্তাহ পর এ রোগ আর ছড়ায় না। নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায় এবং রোগী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

নিয়মিত ওষুধ সেবন না করলে অথবা কিছুদিন ওষুধ সেবন বন্ধ করে দিলে পুনরায় যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর পুনরায় যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে সে রোগীকে সুস্থ করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল হয়। সে ক্ষেত্রে রোগী ঘরে রেখে চিকিৎসা দেয় সম্ভব হয় না। রোগীকে ঢাকায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিতে হয়।

দ্বিতীয়বার যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে সেটিকে বলে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা বা MDR  টিবি বলে। যক্ষ্মারোগী সুস্থ হওয়ার পর আবারও যদি একনাগাড়ে কয়েক সপ্তাহ কাশি হয় তাহলে দ্রুত সরকারি হাসপাতাল অথবা ব্র্যাক স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে  যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি জানান, MDR টিবি হলে কফ কালচার (Cough culture) ও ড্রাগ সেনসিটিভিটি টেস্ট (DST) এই দুই পদ্ধতিতে পরীক্ষা করতে হয়। তবে ঢাকার মহাখালী, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ছাড়া বাংলাদেশে আর কোথাও এই পরীক্ষা করা যায় না।  তবে নির্দিষ্ট জেলা পর্যায়ে Gene Xpert এর মাধ্যমে MDR টিবি দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা সম্পর্কে তিনি বলেন, MDR-TB রোগীর চিকিৎসা সময়কাল মোট ২৪ মাস এবং এই সময়কে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। Intensive Phase- প্রথম ৬ মাস। এই সময়ে রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হবে। পরবর্তী ১৮ মাসকে বলা হয় ontinuation Phase।

এই সময়ে রোগী নিজ নিজ এলাকার দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সেবিকা/স্বাস্থ্য কর্মীর  উপস্থিতিতে নিয়মিত ওষুধ সেবন করবে। এমডিআর-টিবি রোগীর ওষুধ খাওয়ার পর কোন সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত কোন ওষুধ খাওয়ানো যাবে না এবং ওষুধ খাওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে টিবি’র ওষুধ খাওয়া বন্ধ না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

রোগীর প্রতি মাসে ফলোআপ কফ মাইক্রোসকপি পরীক্ষা করতে হবে এবং তিন মাস অন্তর কফ কালচার করার জন্য ঢাকায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পাঠাতে হবে।  সরকার, ব্র্যাক ও সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে MDRরোগীদের জন্য প্রয়োজনীয়  আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।তিনি যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ কামনা করেন।

ব্র্যাক স্বাস্থ্য বিভাগের সিনিয়র জেলা ব্যবস্থাপক রূপম চাকমা জানান, কফে যক্ষ্মা জীবাণুযুক্ত রোগীর কমপক্ষে ৭০% শনাক্তকরণ; শনাক্তকৃত  রোগীদের মধ্যে কমপক্ষে ৮৫% রোগী আরোগ্য করা এবং ২০১৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা (Prevalence) এবং যক্ষ্মার কারণে মৃত্যু অর্ধেকে কমিয়ে আনা এমডিজি’র লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে ব্র্যাক ও স্বাস্থ্য বিভাগ। খাগড়াছড়ি জেলায় সর্বশেষ ২০১৩ সালে ৭৩৫ জন রোগীর মধ্যে যক্ষ্মার জীবাণু শনাক্ত হয়েছে ৬২৬ জনের। এবং শনাক্তকৃত রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৬১২ জন এবং মারা গেছে মাত্র ১৪ জন। সাকসেস রেট ৯৮%। যা এমডিজি’র লক্ষ্যের প্রায় দ্বিগুণ

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply