,
আপডেট

তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে বছরে মৃত্যু ৬০ লাখ, বাংলাদেশে ৫৭ হাজার

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও ব্যবহারকারী দেশ। ২০১১ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করে থাকে। এবং দিন দিন এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে। সারাবিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে তামাকের কারণে। আর বাংলাদেশে মৃত্যু হয় বছরে ৫৭ হাজার মানুষের।

২০১৪ সালে তামাকের ওপর প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সারাবিশ্বে তামাক সেবন করে এমন মানুষের সংখ্যা ১শ’ কোটির ওপরে। এর মধ্যে প্রতিবছর যে ৬০ লাখ মানুষ মারা যায়, তার ৫০ লাখেরই মৃত্যু ঘটে তামাকের সরাসরি প্রতিক্রিয়ায়। সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, তামাক সেবনকারীদের ৮০ শতাংশই বাস করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে।

তামাক অনেকভাবেই সেবন করা যায়। এর মাঝে অন্যতম- ধূমপান (সিগারেট, বিড়ি, হুক্কা) এবং জর্দা, সাদা পাতা, গুল, খৈনী প্রভৃতি সেবনের মাধ্যমে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বরকতের ‘দ্য ইকোনমিকস অব টোবাকো এন্ড টোবাকো টেক্সেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণায় জানা যায়, তামাক সেবনকারী ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ১০ শতাংশই ৮ ধরণের তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। সারাদেশে যত মৃত্যু ঘটে, তার ১৬ শতাংশই ঘটে তামাকজনিত রোগের কারণে।

তামাক সেবনের ফলে শুধু সেবনকারীই যে ভুক্তভোগী হয়, তা নয়। ডব্লিউএইচও’র তথ্যমতে, সারাবিশ্বে পরোক্ষ তামাক সেবনের কারণে প্রতিবছর মৃত্যু হয় প্রায় ৬ লাখ মানুষের। প্রতি ছয় সেকেন্ডে তামাকজনিত কারণে একজন মানুষের মৃত্যু ঘটে।

এক তথ্যে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীতে তামাকের কারণে ১শ’ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এভাবে চলতে থাকলে একবিংশ শতাব্দীতে এই মৃত্যুর সংখ্যা ১শ’ কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তামাকের ধোঁয়ায় অন্তত ৪ হাজার রাসায়নিক আছে, যার মাঝে অন্তত আড়াইশ’ ক্ষতিকর রাসায়নিক বলে স্বীকৃত। এর মাঝে ৫০টির বেশি রাসায়নিক ক্যান্সার সৃষ্টি করে বলে গবেষণায় জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশে তামাকের উৎপাদন ও ব্যবহারের চিত্র খুবই বিপজ্জনক পর্যায়ে। দেশের বন নিধনের ৩০ শতাংশই ঘটে তামাকের উৎপাদনজনিত কারণে। তামাকজনিত কারণে বন নিধনে বাংলাদেশ পৃথিবীর তৃতীয় অবস্থানে আছে। এদিকে এদেশের মোট জনসংখ্যার ১৫ বছরের বেশি বয়সী ৪৩ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে থাকে। এর মাঝে ৫৮ শতাংশ পুরুষ এবং ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। প্রাপ্ত বয়স্কদের ২৩ শতাংশই ধূমপায়ী, যার ২১ শতাংশ নিয়মিত ধূমপায়ী।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

এছাড়া দেশের মোট জনসংখ্যার ২৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পদার্থ সেবন করে থাকে। এর মাঝে পুরুষ ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারী ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এদিকে ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ এন্ড প্রিভেনশন এবং জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় জানা যায়, দেশে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পদার্থ সেবন করে থাকে, যা বিশ্বে দ্বিতীয়। তবে শতাংশের হিসাবে বাংলাদেশ তৃতীয়। প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত ও মায়ানমার।

আরো ভয়ংকর বিষয় হলো- ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরাও তামাক ও তামাকজাত পদার্থের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। ২০০৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু (১৩ থেকে ১৫ বছরের মাঝে) তামাকজাত পদার্থ সেবন করে।

এক জরিপ থেকে জানা যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। বিড়ির চিত্র আরো ভয়ংকর। একই সময় ব্যবধানে দেশে বিড়ি সেবনের হার বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, সারাবিশ্বে অন্তত ৪০ শতাংশ শিশুর পিতামাতার কেউ না কেউ ধূমপায়ী। ২০০৪ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, মোট শিশুমৃত্যুর ২৮ শতাংশই ঘটে পরোক্ষ তামাক সেবনের কারণে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের তত্ত্বমতে, তামাক ও তামাকজাত পদার্থ সেবনের কারণে একজন মানুষের আয়ু ৬ থেকে ১০ বছর হ্রাস পায়। দেশে প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ মানুষ তামাকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রোগে আক্রান্ত হয়। এর মাঝে ফুসফুসের ক্যান্সার, সেরেব্রো-ভাসকুলার ডিজিজ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, দাঁতের মাড়ি ক্ষয়, গলার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ উল্লেখযোগ্য। সেই সাথে অর্থনৈতিক ক্ষতি তো আছেই।

অন্য এক গবেষণা থেকে জানা যায়, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের কারণে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাৎসরিক ব্যয় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা এবং জনশক্তিজনিত ক্ষতি প্রায় ৮ হাজার ৩০ কোটি টাকা।

তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ২০তম অবস্থানে রয়েছে। দেশের মোট জিডিপির ১ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। এই খাতে কর্মরত আছেন সম্পূর্ণ শ্রমশক্তির দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। মোট ট্যাক্স রেভিনিউয়ের ৯ শতাংশ আসে তামাকখাত থেকে।

তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ২০০৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে ঐকমত্যে আসে। এরই ফলশ্রুতিতে দেশে প্রণীত হয় ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০৫’। এই আইনের মাধ্যমে পাবলিক প্লেস, কাজের স্থল, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সেই সাথে সকল প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ধূমপানের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে এর কুফল সম্পর্কে হুঁশিয়ারিমূলক লেবেল লাগানোও বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপরও তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন কমানো যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা অসেচতনতা এবং আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদাসীনতাকে বহুলাংশে দায়ী করেছেন। এছাড়া গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো শিক্ষার আলো সেভাবে ছড়িয়ে না পড়াও এর জন্য দায়ী বলে মনে করেন অনেকে।

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply