,
আপডেট

নারী ও পুরুষের পস্রাবে জ্বালা-পোড়া কি করবেন

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করার প্রধান জীবাণুটি হলো ব্যাকটেরিয়া। তবে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস এ ধরনের প্রদাহ ঘটায়। মেয়েদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছে থাকে বলে সহজেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। ই-কলাই নামক জীবাণু শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহের কারণ।

এখানে অবশ্য আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার যেমন গরম আবহাওয়া বা শরীরে প্রচন্ড তাপের কারনে অনেক সময় পানি শূন্যতা দেখা দেওায়া বা অনেক সময় কিডনির নিঃসৃত পানি গরম থাকার জনা মুত্র নালীর প্রদাহে অনেক সময় জ্বালা পোড়া দেখা দিতে পারে, তবে তা সবাময়িক ইহা তে গাবড়ানোর মত কিছুই নাই তবে অনুরোধ থাকবে বারে বারে যাতে না হয় সে জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি বা ঐ জাতীয় কিছু পান করার।

লক্ষণ ও উপসর্গ :

  • পিঠের পেছনদিকে উদরের নিচে ব্যথা
  • পস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, ব্যথা হওয়া সহ অন্যান্য অস্বস্তিকর অনুভূতি
  • পুন:পুন: পস্রাবের তাগিদ অনুভব কিন্তু খুবই সামান্য পস্রাবের নির্গমন
  • ঘোলাটে, কড়া গন্ধযুক্ত এবং রক্ত সমন্বিত পস্রাবের নির্গমন
  • পস্রাবের সাথে হলদেটে পদার্থের নির্গমন (মূত্রনালী দিয়ে)
  • মহিলাদের ক্ষেত্রে যৌন মিলনের সময় পীড়াদায়ক অনুভুতি বা ব্যথা পাওয়া

কী করা উচিত

  • মদ, ক্যাফেইন, মশলাযুক্ত খাবার এবং এসিড সমৃদ্ধ খাবার বর্জন করুন কেননা এগুলো আপনার পিত্ত থলিকে আরও বেশি সমস্যায় আক্রান্ত করে।
  • দৈনিক আট থেকে দশ গ্লাশ পানি খাবেন যাতে করে আপনার পস্রাবে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো গলে পস্রাব দিয়ে বেরিয়ে আসে। (তবে ডাক্তারের কাছে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে যাবার আগে বেশি পানি খাবেন না, নচেৎ আপনার পস্রাবের ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব ঠিকমতো উদঘাটন করা সম্ভব হবে না।)
  • একটা গরম কিছু বা হট ওয়াটার ব্যাগ বা বোতল চেপে ধরে ব্যথার স্থানে রাখতে পারেন।
  • যদি পস্রাবের জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দেয়া এন্টিবায়োটিক ওষুধগুলো আপনার শরীরে ইস্ট বা ছত্রাকের আক্রমণ ঘটায় সেক্ষেত্রে টক দই খেতে পারেন। টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম।

কখন ডাক্তার দেখাবেন :

  • যদি তীব্র ব্যথা জেগে ওঠে এবং এই ব্যথা আপনার পাঁজর পেছনে নিচ থেকে শুরু হয়ে আপনার যৌনাঙ্গের দিকে বয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো কিডনিতে পাথরের সমস্যা।
  • যদি আপনার জ্বর থাকে এবং জ্বর দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং আপনার পিঠে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা হয়, কিংবা আপনার কোমরের কাছে বা কোমরের উপরে ব্যথা করে, সেক্ষেত্রে আপনার কিডনিতে ক্ষতের সমস্যা রয়েছে।
  • আপনি যদি নারী হন এবং পস্রাবের সময় যদি কষ্ট হয় এবং সেই সাথে যদি একটানা ব্যথা থাকে আপনার পিঠের নিম্নাংশে কিংবা তলপেটে বা উদরে; যদি যৌন মিলনের সময় কষ্ট হয়, এবং/কিংবা অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয়, কিংবা হঠাৎ হঠাৎ না হয় বা হলে খুবই বেশি রক্তপাত হয়। সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো ডোমাটরিওসিস বা পেলভিক ইনফ্ল্যামেটোরি ডিজিজ হয়েছে।
  • যদি প্রস্রাবে কষ্ট হয় এবং একইসাথে উদ্ভট কোন পদার্থ পস্রাবের সাথে শিশ্ন কিংবা যোনী পথ দিয়ে নির্গত হয় সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো যৌন সাহচার্য ঘটিত সংক্রামক কোন রোগ হয়েছে।
  • যদি আপনি একজন পুরুষ হন এবং পস্রাবের সময় আপনার জ্বালা-পোড়া হয় কিন্তু পুন:পুন: পস্রাবের তাগিদ অনুভব করেন, পস্রাব থেমে থেমে নির্গত হয়, বীর্যপাতে কষ্ট হয়, কিংবা পেলভিস বা শ্রোণীতে কিংবা পিঠের নিম্নাংশে যদি ব্যথা থাকে সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো প্রস্টেট-এর সমস্যা রয়েছে।
  • যদি আপনার পস্রাব রক্তাক্ত দেখা যায় কিংবা ঘোলাটে দেখা যায়
  • যদি আপনার পস্রাবে জ্বালা পোড়া হয় কিংবা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন রোগের লক্ষণ ধরা পড়ে।
  • যদি এই লক্ষণগুলো অপসারিত না হয় এবং চিকিৎসা স্বত্তেও লক্ষণগুলো আবার জেগে ওঠে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন :

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)
  • প্রতিদিন নূন্যতম আট গ্লাস পানীয় খান সাথে পানি প্রচুর পরিমাণে পান করুন। ক্রানবেরির জুস খেতে পারেন, এটা মাঝে মধ্যে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া থেকে শরীরকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • প্রস্রাবের তাগিদ অনুভব করলে পস্রাব দমিয়ে রাখবেন না। এবং প্রতিবার পস্রাবের সময় আপনার মূত্রথলিটি পুরোপুরি খালি হচ্ছে কি না সে বিষয়ে যত্নশীল হোন।
  • যৌন সংসর্গের আগে ও পরে যৌনাঙ্গ ধুয়ে ফেলুন, কেননা এর ফলে যৌনমিলনের দরুন আপনার যৌনাঙ্গে কোন ব্যাকটেরিয়া গিয়ে থাকলে সেটা বেরিয়ে আসবে।
  • বুদবুদ ওঠা পানিতে স্নান এড়িয়ে চলুন এবং সুগন্ধীযুক্ত টয়লেট্রিজগুলোও বর্জন করুন। একটা মৃদু এবং গন্ধহীন সাবান নিয়ে আপনার নিম্নাঙ্গের পরিধেয়গুলো ধৌত করুন। সুগন্ধীযুক্ত এবং রুক্ষ বা ক্ষারীয় পণ্যগুলো মূত্রনালী এবং এর চারপাশের ত্বকে প্রদাহ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
  • সুতির কাপড়ের তৈরি নিম্নাঙ্গের বস্ত্রাদি পরিধান করুন এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন।
  • আপনার যৌনাঙ্গ প্রতিদিন একবার পরিস্কার পানি দিয়ে ধৌত করুন।

মহিলাদের ক্ষেত্রে:

  • আপনি যদি ডায়াফার্ম ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে এটা উষ্ঞ ফেনায়িত জলে ধুয়ে সাবধানে জল নিংড়িয়ে শুকতে দিন। যদি আপনার ইনফেকশান বা ক্ষতগুলো পুন:পুন: জন্মাতে থাকে সেক্ষেত্রে ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন সেটা কি ডায়াফার্মের সঠিক আকার না হবার কারণে ঘটছে কি না। যদি আকার পরিবর্তন করার পরও আপনার সমস্যার সমাধান না হয় সেক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রনের অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করুন।
  • মূত্রনালীকে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখতে সবসময় টয়লেট থেকে বেরোবার আগে নিজেকে ভালোভাবে পরিস্কার করে নিন।
  • প্রস্রাব নির্গমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপারগতা

লক্ষণ ও উপসর্গ

  • কেশ ওঠার সময়, কিংবা শরীর চর্চা করার সময়, হাসবার সময় কিংবা কোনভাবে মূত্রথলিতে চাপ পড়লেই সামাণ্য পরিমাণে পস্রাব নির্গত হয়ে যাওয়া
  • প্রস্রাবের তাগিদ নিয়ন্ত্রনে অপারগতা
  • নিজের অজান্তেই পস্রাব হয়ে যাওয়া

কী করা উচিত :

  • যদি আপনার মনে হয় যে একটা কাশি বা হাচি আসছে সেক্ষেত্রে এক পা অন্য পায়ের উপর উঠিয়ে দিয়ে বসুন। যে গবেষকেরা এই পদ্ধতিটি নিরীক্ষা করে দেখেছেন তাদের মতে এটা নিরাপদ, অনিয়ন্ত্রিত পস্রাবের বেগ বা পস্রাবের নির্গমন রোধে এই পদ্ধতি কার্যকর।
  • কখন কখন অপ্রত্যাশিতভাবে পস্রাব নির্গমন হয় সেটা টুকে রাখুন। কতক্ষণ ধরে পস্রাব নির্গমন হয় এবং সে সময় আপনি কি করছিলেন সেটাও লিখে রাখুন। এই তথ্যগুলো পেলে ডাক্তার আপনার সমস্যার ধরন বা ধরনসমূহগুলোকে আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে এবং আপনার জন্যে উপযুক্ত এবং কার্যকর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেও সক্ষম হবে।
  • ডিজপোজেবল (ব্যবহারের পর ফেলে দেয়া যায়), তরল শোষণ করার ক্ষমতা সম্পন্ন নিম্নাঙ্গের পরিধেয় পরিধান করুন। আপনার সাধারণ দৈনন্দিন কাজকর্মগুলো চালিয়ে যাওয়া জরুরী, এবং একই সাথে এই রোগের ক্ষতিকর বিষয়টিও এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা নেয়া উচিত আর সেই ক্ষতিকর বিষয়টি হলো: সামাজিকভাবে অপদস্থ হওয়া। কিন্তু এই বস্ত্র পরিধান কেবলই সাময়িক সমাধানের বিষয়। কেননা এই বস্ত্রগুলো অনেক সময় ধরে পরিধান করলে ঘামাচির মতো গুটি এবং অন্যান্য আরও জটিলতার দেখা দিতে পারে।
  • প্রস্রাবের তাগিদ অনুভব করুন আর নাই করুন প্রতি ঘন্টায় একবার বাথরুমে যাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • বাড়ির বাইরে গেলে প্রচুর পানীয় পান থেকে বিরত থাকুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

  • যদি মূত্রথলি দিয়ে নির্গত তরলের গতি নিয়ন্ত্রণের অপারগতা সংক্রান্ত কোন সমস্যা আপনার থাকে।
  • যদি কোন ক্ষত বা রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বা লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন জ্বর আসা কিংবা পস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন :

নিম্নোক্ত শরীর চর্চার কৌশলগুলো রপ্ত করুন, এই ব্যায়ামগুলো মূত্রথলির পেশিগুলোকে আরও সক্রিয় করে তুলে মূত্র থলি দিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে তরলের নির্গমন রোধে সহায়ক হয়ে ওঠে:

  • যখন আপনি পস্রাব করতে শুরু করেন এবং শেষ করেন তখন উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন যে কোন কোন হ্মহানের পেশিগুলো এই শুরু এবং বন্ধের কাজটি করছে। পরে, ঐ পেশিগুলো নূন্যতম ১৫ থেকে ২০ বার একইভাবে সংকোচন ও সম্প্রসারণ করুন। দিনে তিনবার এই চর্চাটি করুন। কিছুদিন চর্চার পর চেষ্টা করুন যে পেশিগুলোকে সংকোচন করে নূন্যতম ১০ সেকেন্ড চেপে ধরে থাকতে পারেন কি না। এই ব্যায়াম চর্চা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়: কেবল আপনিই জানবেন যে এই ব্যায়ামটি আপনি করছেন।
  • আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলুন এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করুন।
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন ব্ল্যাডার বা মূত্র থলির উপর চাপ প্রয়োগ করে।
  • প্রচুর পরিমাণে সজীব ফল, শাক সব্জি এবং আস্ত খাদ্য দানা আহার করুন যাতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা আপনার না হয়। কেননা কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে যে তীব্র চাপ অনুভূত হয় সেটা মূত্রথলির পেশিগুলোকে দুর্বল করে দেয়।
  • মদ পান থেকে দূরে থাকুন, এবং ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পান থেকেও বিরত থাকুন কেননা এগুলো মূত্রথলিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলে অনাকাঙ্খিত তরল নির্গমনের সুযোগ করে দেয়।
  • আপনার ডাক্তারের সাথে আলাপ করে জেনে নিন যে এই রোগ নিরাময়ের জন্যে আপনি বায়োফিডব্যাক (একটি পদ্ধতি যা দ্বারা কেউ নিজের শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ সম্পর্কে আগেভাগে অবহিত হতে সক্ষম) ব্যবহার করতে পারবেন কি না।
বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply