এইচআইভি এইডস সম্পর্কে জানুন সচেতন থাকুন | হেলথ বার্তা
,
শিরোনাম

এইচআইভি এইডস সম্পর্কে জানুন সচেতন থাকুন

এইচআইভি / এইডস কনটেন্টটিতে এইডস কি, রোগের লক্ষণ, কিভাবে ছড়ায়, কিভাবে ছড়ায় না, কখন ডাক্তার দেখাতে হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা, প্রতিকার, প্রতিরোধ সর্ম্পকে বর্ণনা করা হয়েছে। এইচআইভি বা এইডস হলো জীবনহানিকর একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। এখন পর্যন্ত এইচআইভি/এইডসের কোন কার্যকর চিকিৎসা আবিস্কার হয়নি। এইডসের সংক্রমণ প্রতিরোধ সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এর প্রতিরোধ, চিকিৎসা এবং এইডস সম্পর্কে পড়াশুনা ও সচেতনতা।

এইডস কি

এইডস একটি সংক্রামক রোগ যা এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) ভাইরাসের সংক্রমণের মাধ্যমে হয়। এটি মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এইচআইভি সংক্রমণের ফলে অন্যান্য রোগ যেমন-নিউমোনিয়া, মেনিননজাইটিস এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। এইচআইভি সংক্রমণের পরের ধাপকেই এইডস (Acquired Immunodeficiency Syndrome) বলা হয়।

এইডস হয়েছে কি করে বুঝছেন 

সংক্রমণের ধাপের উপর নির্ভর করে এইচআইভি ও এইডসের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো পৃথক হয়ে থাকে।

এইডস এর লক্ষণ ও উপসর্গ 

সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত: 

  • জ্বর
  • মাথা ব্যথা
  • গলা ভাঙ্গা
  • লসিকাগ্রন্থি ফুলে উঠা (Swollen lymph glands)
  • শরীরে লালচে দানা (Rash) ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়।

সংক্রমণের পরবর্তী সময় সাধারণত: 

  • অস্থিসন্ধি ফুলে উঠা (Swollen lymph nodes)
  • ডায়রিয়া
  • শরীরের ওজন কমা
  • জ্বর
  • কাশি এবং শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়।

সংক্রমণের শেষ পর্যায়ে সাধারণত: 

  • রাতের বেলা খুব ঘাম হওয়া
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে ১০০ ফারেনহাইট (৩৮ সে.) বা এর অধিক তাপমাত্রার জ্বর অথবা কাঁপুনি
  • শুকনা কাশি এবং শ্বাস কষ্ট
  • দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া
  • মুখ অথবা জিহ্বা বেঁকে যাওয়া অথবা সাদা দাগ পড়া
  • মাথা ব্যথা
  • সবকিছু অস্পষ্ট ও বিকৃত দেখা
  • তীব্র অবসাদ অনুভব
  • তিন মাসের অধিক সময় ধরে অস্থিসন্ধি ফুলে থাকা ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে এইচআইভি’র লক্ষণ 

  • ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া
  • স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া
  • হাঁটতে সমস্যা
  • মানসিক বৃদ্ধি দেরীতে হওয়া
  • কানের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া এবং টনসিলের মতো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকট আকার ধারণ করা

কিভাবে এইডস ছড়ায় 

  • শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে
  • এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে
  • কারো ব্যবহৃত সুচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহারে মাধ্যমে
  • সিরিঞ্জ এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা জনিত কারণে
  • গর্ভবতী মা এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে, ডেলিভারীর সময় এবং আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে শিশুর এই রোগ হতে পারে।
  • শরীরের কোন অঙ্গ বা কলা প্রতিস্থাপন করলে অথবা জীবাণুমুক্ত করা হয়নি এমন সরঞ্জাম দিয়ে দাঁতের চিকিৎসা বা অপারেশন করলে।

কি করলে এইডস ছড়ায় না 

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খাওয়া দাওয়া করলে
  • আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পায়খান (Toilet) ব্যবহার করলে
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে হাত মিলালে
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খেলাধূলা, কোলাকুলি করলে
  • এই থালায় ভাত খেলে

কখন ডাক্তার দেখাবেন

রোগের প্রাথমিক ও পরবর্তী পর্যায়ের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

কোথায় চিকিৎসা করাবেন 

  • মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
  • সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
  • বেসরকারী হাসপাতাল
  • এনজিও পরিচালিত বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকেন্দ্র

কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে  

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)
  • রক্তের পরীক্ষা (ELISA and Western blot tests)
  • মুখের শ্লেষ্মা পরীক্ষা (Oral Mucus)

কি ধরণের চিকিৎসা আছে 

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন এবং অন্যান্য নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

এইচআইভি/ এইডস আক্রান্ত হলে জীবন-যাপন পদ্ধতি

  • শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করা
  • গর্ভধারণ না করা
  • বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন ও নির্দেশনা মেনে চলা
  • প্রতিষেধক গ্রহণ
  • সুষম খাদ্য যেমন-তাজা শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি খাওয়া
  • যেসব খাবার খেলে সংক্রমণ হতে পারে যেমন-কাঁচা খাবার সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকা
  • বিশুদ্ধ পানি পান করা
  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা
  • পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম
  • ধূমপান ও মদপান থেকে বিরত থাকা
  • হাত ভালোমত পরিষ্কার করা

এইডস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়

  • নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন
  • এইচআইভি আক্রান্ত কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে বিরত থাকা
  • অপরিষ্কার এবং কারো ব্যবহৃত সুচ ব্যবহার না করা
  • কারো থেকে রক্ত গ্রহণ করতে হলে সেটা এইচআইভি সংক্রমিত কিনা পরীক্ষা করে দেখা
  • নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা
  • এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্লেড এবং টুথব্রাশ ব্যবহার না করা
  • গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন নেয়া
  • সতর্কতার সাথে নিজের শারীরিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতি খেয়াল রাখা

সচরাচর জিজ্ঞাসা 

প্রশ্ন. ১ . এইডস কেন হয় ? 

উত্তর.  বিশেষ এক ধরণের জীবাণু এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) দ্বারা সংক্রমণের মাধ্যমে এইডস হয়।

প্রশ্ন. ২. কাদের এইডস হবার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে ? 

উত্তর. যাদের এইডস হবার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে তারা হলেন :

  • যারা একের অধিক সঙ্গীর সাথে অনিরপদ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন
  • যাদের এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে
  • সিফিলিস (Syphilis), হার্পিস (Herpes), ক্ল্যামাইরিয়া ( Chlamydia), গনোরিয়া (Gonorrhea) অথবা Bacterial vaginosis এর মত যৌনবাহিত রোগ ( Sexually Transmitted Disease) হলে
  • অন্যের ব্যবহৃত সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে
  • এইচআইভি আক্রান্ত মায়েদের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া শিশু

প্রশ্ন .৩. এইডস হলে কি ধরণের জটিলতা দেখা দিতে পারে ? 

উত্তর. এইডস হলে নিচের জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে :

  ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ 

  • ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া (Bacterial Pneumonia)
  • মাইকোব্যাকটেরিয়াম এভিয়াম কমপ্লেক্স বা ম্যাক (Mycobacterium Avium complex) সংক্রমণ
  • যক্ষা (Tuberculosis)
  • সালমোনেললোসিস (Salmonellosis)
  • ব্যাসিলারী এনজিওম্যাটোসিস (Bacillary angiomatosis)

  ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ 

  • সাইটোমেগালো ভাইরাস (Cytomegalovirus)
  • ভাইরাল হেপাটাইটিস (Viral hepatitis)
  • হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (Herpes simplex virus)
  • হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (Human papillomavirus)
  • প্রোগ্রেসিভ মালটিফোকাল লিউকোএনসিফ্যালোপ্যাথি (Progressive Multifocal Leukoencephalopathy (PML)

ছত্রাকজনিত সংক্রমণ 

  • ক্যানডিডিয়াসিস (Candidiasis)
  • ক্রিপটোকক্কাল মেনিনজাইটিস  (Cryptococcal meningitis)

জীবাণু সংক্রমণ 

  • নিউমোসিসটিস কারিনি নিউমোনিয়া (Pneumocystis carnii Pneumonia (PCP))
  • টক্সোপ্লাজমোসিস (Toxoplasmosis)
  • ক্রিপটোস্পোরিডিওসিস (Cryptos poridiosis)

ক্যান্সার সংক্রান্ত জটিলতা 

  • কাপোসিস সারকোমা (Kaposi’s Sarcoma)
  • নন-হডকিনস লিম্ফোমা (Non-Hodgkin’s Lymphoma)

অন্যান্য জটিলতা 

  • শরীরের ওজন কমে যাওয়া এবং ডায়রিয়া,দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা এবং জ্বর(Wasting syndrome)
  • স্নায়ুগত জটিলতা (Neurological Complications)
  • মৃত্যূ বরণ

সূত্র: জাতীয় ই তথ্যকোষ 

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে