,
আপডেট

সর্বাধুনিক ক্যান্সার শনাক্তকরণ যন্ত্র আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. জহির

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকী প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার শনাক্তকরণ পদ্ধতি (ডিভাইস) আবিষ্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের মতো নিম্নআয়ের দেশের মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে এমন একটি যন্ত্রের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার শনাক্তকরণের স্বপ্ন নিয়ে ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকী ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল থেকে অনুদান পেয়েছিলেন।

সেই সাফল্যের পথ ধরে তিনি ন্যানোশিয়ারিং নামে এমন এক ধরনের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে মানব রক্তের অভ্যন্তরে অবস্থিত অতি বিরল এক ধরনের কোষ (সার্কুলেটিং টিউমার সেল বা সিটিসি) সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন।

তার এই আবিষ্কার আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির জার্নালসহ কয়েকটি বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণআবিষ্কারের প্যাটেন্ট লাভ করেছেন। পরে ন্যানোশিয়ারিং পদ্ধতির ভৌত গুণাবলি আবিষ্কারের জন্য গত বছরের শেষদিকে ড. সিদ্দিকী আবারও অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল থেকে সাড়ে তিন লাখ ডলার অনুদান পান।

এ সংক্রান্ত অধিকতর গবেষণা এবং গবেষণাটি সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে গত মাসে তিনি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল থেকে ৪ লাখ ১১ হাজার ডলার অনুদান পেয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. সিদ্দিকীর জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামে। মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজন তাকে শামীম বলে ডাকেন। তার বাবার নাম আবদুুল হাকিম তালুকদার ও মা মজলিছুন নেছা তালুকদার। তারা পাঁচ ভাই, এক বোন। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে অস্ট্রেলিয়াতেই থাকেন।

সমকালের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ড. সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো নিম্নআয়ের দেশের মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে এমন একটি যন্ত্রের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার শনাক্তকরণের স্বপ্ন নিয়ে আমি ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল থেকে ৩ লাখ ৭২ হাজার ডলার অনুদান পাই।

সেই অর্থায়নে আমার গবেষক দলকে নিয়ে এই ডিভাইস তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে মানব রক্তের অভ্যন্তরে অবস্থিত অতি বিরল এক ধরনের কোষ (সার্কুলেটিং টিউমার সেল বা সিটিসি) সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়, যেটি প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট তথ্য বহন করে। এই ডিভাইসের কার্যকারিতার মূলে আছে ন্যানোশিয়ারিং নামে এক ধরনের পদ্ধতি।’

ড. সিদ্দিকী বলেন, ‘হৃদরোগের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম রোগ ক্যান্সার। প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। অনেকেই মারা যান। ক্যান্সারের চিকিৎসায় ১০ থেকে ৪০-৫০ লাখ টাকা খরচ হয়। খুবই ব্যয়বহুল এর চিকিৎসা। টাকা খরচ করেও অনেক সময় রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। হুমায়ূন আহমেদের মতো জনপ্রিয় বাঙালি এই রোগে মারা গেছেন।’তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যান্সার যখন ধরা পড়ে, তখন করার কিছুই থাকে না।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

শুধু মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার ভালো হয়।তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিলে আমি এই ডিভাইস তৈরির প্রস্তাবনা পাঠাই। যে ডিভাইস দিয়ে শরীরে ক্যান্সারের কোষ শনাক্ত করা যায়। ক্যান্সারের কোষগুলো এ রকম যে, শরীরে মিলিয়ন মিলিয়ন কোষের মধ্যে এই কোষ ১০ থেকে ১০০টার মতো থাকে।’

ড. সিদ্দিকী জানান, তার টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশের মতো নিম্নআয়ের মানুষ, যাদের আর্থিক ক্ষমতা কম তাদের সাধ্যের মধ্যে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা নিয়ে আসা। ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিলে এটিই তার প্রস্তাবনা ছিল। অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল তাকে ‘ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড’ নামে ফান্ডটি দিয়েছিল। তার ডিভাইস আন্তর্জাতিকভাবে প্যাটেন্ট লাভ করেছে। এই উদ্ভাবনকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারোপযোগী করার জন্য আবার অনুদান পেয়েছেন। এখন তার টার্গেট ডিভাইসটিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারোপযোগী করে তোলা।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: গবেষণায় নিবেদিত থাকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ ও ২০১২ সালে দু’বার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার সংসদ ভবনে অনুদানপ্রাপ্ত কৃতী বিজ্ঞানীদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকীও ছিলেন। এর আগে ২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ব্রেইন কোরিয়া ২১’ নামে শ্রেষ্ঠ গবেষণা পদক তুলে দেওয়া হয় তার হাতে।

কোরিয়ার বিভিন্ন বিজ্ঞান সাময়িকীতে ড. সিদ্দিকীর যেসব গবেষণা নিবন্ধ ছাপা হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয় এই পদক। ২০০৭ সালে পিএইচডিতে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য পুসান বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা ছাত্র নির্বাচিত হন তিনি। এর পর পোস্ট ডক্টরেট করেন অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এখন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজ করছেন ড. সিদ্দিকী।

পড়ালেখা :ধর্মপাশার নিজ গ্রাম জয়শ্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর, একই উপজেলার বাদশাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে (লজিংয়ে থেকে) ভর্তি হন ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকী। অষ্টম শ্রেণীতে তিনি সিলেট শহরতলির মোগলাবাজারের রেবতি-রমণ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৫ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে স্টার মার্ক পেয়ে এইচএসসি পাস করে ১৯৯৬ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন তিনি।

২০০১ সালে ভৌত রসায়নে মাস্টার্স সমাপন করেন ড. সিদ্দিকী। ২০০৭ সালে সাউথ কোরিয়ান পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে অ্যানালাইটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি লাভ করেন। তার পিএইচডি গবেষণাপত্র পৃথিবীর নামকরা সব জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মনাশ ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত প্রফেসর এলান বন্ডের কাছে তিন বছর পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা শেষে ২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট ফর বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং ন্যানো টেকনোলজিতে (এ.ই.বি.এন.) যোগদান করেন ড. সিদ্দিকী এবং ওখানে এখনও সিনিয়র গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। এ বছর এইবিএনে একজন অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ লিডার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি।

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply