স্ট্রোক এবং প্যারালাইসিস (প্রথম পর্ব) | হেলথ বার্তা
,
আপডেট

স্ট্রোক এবং প্যারালাইসিস (প্রথম পর্ব)

বেশ অবাক হতে হয় বা মেনে নিতে অনেক কষ্টও  হয় যখন কম বয়সী মানুষজনকে স্ট্রোক করতে দেখা যায়। যদি ও বেশির ভাগ সময়ে স্ট্রোকের আক্রমন  মাইনর পর্যায়ের হয় । মুলত রিসার্চ অনুসারে এর জন্য বাস্তব অজ্ঞতা ( জানার অভাবে ) বা অবহেলার কারনে হয়ে থাকে বলে অনেকে মনে করেন। অথবা কখন ও ভুল চিকিৎসায় এই স্ট্রোকের ভয়াবহতা বেড়ে প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে । তাই সকলের জেনে রাখা ভাল স্ট্রোকের কারণ, লক্ষন , প্রতিকার ও প্রতিরোধ সমূহ নিয়ে ।

কারণ স্ট্রোক হল মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ । কার কখন স্ট্রোক হবে কাউকে কখনও বলে আসবে না , যা আকসস্মিক দুর্ঘটনার মতই ঘটে যায়। অন্যদিকে পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের মুল কারন ব্রেইনের স্ট্রোক ( ৯৫% পক্ষাঘাত জাতীয় অসুখ মুলত এই স্ট্রোকের কারনে হয়ে থাকে ) যদিও পরম করুণাময়ের অদৃশ্য ইশারায় সবাই কে মরতে হবেই ইহা নিশ্চিত কিন্তু অবশ্যই দীর্ঘ দিন বিকলাঙ্গ হয়ে কেউ মরতে চাই না, আর সেই কারনের মধ্যে স্ট্রোক হচ্ছে প্রথম ও প্রধান কারন । সে জন্য প্রাথমিক ভাবে সকলের ভাল ভাবে জানা উচিৎ ।

স্ট্রোক বলতে বোঝায় “Rapid Loss of Function of Brain” অর্থাৎ হঠাৎ করে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা থেমে যাওয়া। স্ট্রোকে সাধারণত ব্রেনের নিচের দিকের ব্যাজাল গ্যাংলিয়া এবং থ্যালামাস নামক জায়গা বেশি আক্রান্ত হয় বা কখন মস্তিষ্কের যেকোনো জায়গায়ই আক্রমন করে স্ট্রোক হতে পারে।

অর্থাৎ মস্তিষ্কের ভিতর রক্ত চলাচলের স্বভাবিক গতি যখন বিগ্নিত হয়, রক্তনালীগুলো সরু হয়ে, রক্ত জমাট বেধে, অথবা অস্বাভাবিক কোন রক্তনালী (এনউরিজম বা এভিএম) থেকে , উচ্চ রক্তচাপে রক্তনালী ফেটে বা চিঁড়ে গিয়ে রক্ত ক্ষরন হয় তখনই স্ট্রোকের এর সূচনা ঘটে অর্থাৎ ক্ষরিত রক্তের চাপে মস্তিষ্কের কিয়দাংশ কার্যকারিতা হারিয়ে যায় যা পরবর্তীতে সাময়িক (Transient ischaemic attack-TIA ) বা কারও বেলায় দীর্ঘ স্থায়ী হতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রোকের আরেক নাম সেরিব্রোভাস্কুলার ডিজিস (Cerebrovascular disease)। স্ট্রোকের সমস্যা কি ধরনের হবে তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোন পাশে (কোন অংশে) স্ট্রোক হয় এবং আঘাতের পরিমাণ কতটুকু তার উপর এবং যদি স্নায়ুতন্ত্রের কাজকর্ম ২৪ ঘণ্টার বেশী বন্ধ থাকে তা হলে মিনি স্ট্রোক থেকে মেজর স্ট্রোকে চলে যেতে পারে । সে সময় মস্তিস্কের কোন অংশে রক্তপ্রবাহ বন্ধ বা ওই অংশ বিনষ্ট অথবা মরে গিয়ে মস্থিস্কের ঐ অংশের সাথে যোগা যোগ রক্কা কারি শরিরের যে অংশ থাকে ইহার কর্ম ক্ষেমতা হারিয়ে ফেলে বিধায় শরীরের অংশবিশেষ অচল এবং অবশ হয়ে যায়।

যাকে প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত বলা হয়ে । মস্তিষ্কের ডান অংশ শরীরের বাম অংশকে পরিচালিত করে।  আর বাম অংশ শরীরের ডান অংশকে পরিচালিত করে বিধায় স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের কোন একটি অংশ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের বিপরীত অংশ অবশ বা প্যারালাইসিস হতে দেখা যায় ।

মানুষের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ-কর্ম, বিশেষ করে হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালীর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিস্ক থেকে। এর গঠন এবং কাজের ধারা অব্যাহত ভাবে করে যাওয়ার জন্য অক্সিজেন, গ্লুকোজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের সরবরাহ নিশ্চিত রাখা দরকারী যা মাত্র দুই মিনিটের বেশি সময় বন্ধ থাকলে মস্থিস্কের আক্রান্ত অঞ্ছলের স্নায়ুকোষ স্থায়ীভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা নষ্ট হতে পারে।

কোন কোন সময় এইসব খনিজ পদার্থের ঘাটতির ফলে স্ট্রোক দেখা যায় যাকে হিট স্ট্রোক বা sunstroke বলা হয় । স্ট্রোক ও হৃদরোগ (heart attack) দুটো আলাদা যদি ও কারনগুলো প্রায়ই এক- তাই অনেকের স্ট্রোক হলেই মনে করেন হার্ট এটাক্ট হয়ে গেছে, কেউ কেউ উপরি, ঝাড়ু ফুঁক, ঝিন ( ঝিন বা ভুত জাতীয় কিছু অদৃশ্য প্রজাতি আছে বলে আমরা জানি বা বিশ্বাস করতে হয়, কিন্তু তাহারা কার ও ব্রেইনের ভিতর বা শরিরে বসে থাকে না, তাহারা কীভাবে মস্তস্কে আর্চ করে চলে যায় অবশ্যই ভাল ভাবে জানতে পারবেন, পরবর্তী অধ্যায় বা উজা প্রথা নানা ধরনের ইত্যাদি করে থাকেন।

সে জন্য অনেক সময় ভুল বুজাবুজির ফলে অনেক রোগির শারীরিক কর্মক্ষমতা হারানো বা মারা যেতে ও দেখা যায় – তাই যতটুকু জানার দরকার একটু সংক্ষেপে আলোচনা করলাম ।

স্ট্রোক কে প্রথমে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ

  • ১) ইসেকমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke) ৭৫% যা মস্তিষ্কে রক্তের সরবরাহ কম হওয়ার কারনে ।
  • ২) হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke)১৫% মস্তিষ্কে রক্তের ক্ষরণ জনিত কারনে ।

ইসেকমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke)

রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া জনিত স্ট্রোক শতকরা ৮৫% স্ট্রোকের কারণ। মস্তিষ্কে রক্ত এবং অক্সিজেনের সরবরাহকারী রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে এই স্ট্রোক হয়। রক্ত জমাট বেঁধে এই রক্তনালী বন্ধ করে দেয়। বেশির ভাগ স্ট্রোকই এভাবে হয়। এথারোসক্লেরোসিস হয়ে রক্তনালী সরু হয়ে যেতে পারে। এই প্রথা এথারোসক্লেরেটিক প্লাগ (রক্তে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য চর্বি মিশ্রনে হয়) জমাট রক্ত মিলে রক্তনালী সরু, শক্ত এবং কমস্থিতিস্থাপক করে তোলে। ফলে মস্তিস্কে রক্ত চলাচল কমে যায় অথবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ( নিচে লাইভ ভিডিও লিঙ্কে আছে, দেখতে চাইলে  — দেখেনিতে পারেন~

ইসেকমিক স্ট্রোকে যে সকল প্রধান প্রধান কারন কে দায়ি বলে মনে করা হয়-

ধমনীর মধ্যে রক্ত চাপ, রক্ত বেশি অতিবাহিত হয় বা বাধা গ্রস্থ হওয়া , রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টারল ( রক্ত ধমনী দেয়াল ভিতরে চর্বি এবং লিপিড বিল্ড আপ করা ), মস্তিষ্কে রক্তনালীসমূহ ছোট হয়ে যাওয়া বা সাময়িক অন্যান্য যে কোন কারনে ধমনি/শিরার মধ্যে রক্ত জমাট হয়ে যাওয়া বা গুটির মত কিছু তৈরি হওয়া ,( বিশেষ করে জীবাণু জাতীয় কারনে ) -অথেরোস্ক্লেরোসিস এর কারনে – ডায়াবেটিস , বা হৃদরোগ ( হার্টের মাংশ পেশী ও ধমনির অনিয়ন্ত্রিত যে কোন ধরণের অসুখ ) ইত্যাদি কারনে হতে পারে।

তবে প্রথম পর্যায়ে ৮৫% এই অসুখের ২৪ ঘণ্টার ভিতরেই আবার ঠিক হয়ে যেতে দেখা যায়, যাকে সাময়িক রক্ত সরবরাহ ঘাটতিজনিত গোলযোগের (Transient ischaemic attack-TIA) আওতায় আনা হয় । তখন যদি নির্দিষ্ট কারন খুজে বাহির না করেন তা হলে ইহা আবার ও আক্রমণ করতে পারে বিধায় দ্বিতীয় পর্যায়ের আক্রমণে খুভি মারাত্তবক ক্ষতি হওয়ার সম্বাভনা থেকে যায়। যা ৬০% এর মত মারা যাওয়া বা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শরীরের অর্ধেক অবশ হওয়ার সম্বাভনা থাকবেই ।

যেমন- দেখবেন অনেকের স্ট্রোকের উপসর্গ হিসাবে বর্ণনা করেন – ঘুমের সময় বা ভোরে হঠাৎ করে,  বাথ রুমে যেতে, নামাজ পড়াতে, বা যে কোন ধরনের উক্তেজিত কথা বার্তা বলতে বলতে, ইত্যাদি কারনে মাথা ঘোরিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছেন এবং এর কয়েক মিনিটের ভিতর ই দেখবেন দেখেন তিনির হাত পা বা মুখ বা যে কোন একটি অংশ অবশ হয়ে গেছে বা সে ধরণের কিছু একটা সাময়িক লক্ষন দেখা যায় এবং ইহা ঘন্টা বা এমনকি দিন পর্যন্ত সময় ধরে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে ( কোন অবস্থায় ২৪ ঘন্টার উপরে যাবে না- )।

এ সময় অনেক কে আক্রমণের একটু পরে এমনিতেই দেখতে মনে হইতেছিল সুস্থ ই আছেন ! ( আসলে সুস্থ না ) কিন্তু পরের দিন শুনলেন আবার ও স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে তিনির খুভ বেশি গুরুত্বর অবস্থা, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অজ্ঞান, খিছুনি সহ সম্পুরন অবশতা এমন কি মারা যেতে ও দেখা যায় ।

এ সময় সামান্য একটু খেয়াল করে যদি আপনার নিকটতস্থ হাস্পাতাল বা ভাল চিকিৎসকের সরনা পন্ন হতে পারেন ইনশাল্লাহ ৯০% নিশ্চয়তা দিয়ে বলা সম্বভ আপনি হয়তো পুরাপুরি সুস্থ না হলে ও জীবন কে চালিয়ে যাওয়ার মত দৈহিক সক্ষমতা থাকবেই । অর্থাৎ যে ভাবেই হউক নির্দিষ্ট কারন খুজে বের করার চেস্টা চালিয়ে যাবেন ।

তবে অনেক সময় তা নির্ভর করে বয়সের উপর , সাধারনত বয়স ৫৫/৬০ অতিরিক্ত হলে একটু ঝুকি বেশি থাকতে পারে ( তিনিদের বেলায় আগে ভাগেই যদি নিচের নিয়ম কানুন মেনে চলতে পারেন আমার বিশ্বাস স্ট্রোক জাতীয় সমসসা থেকে অবশ্যই সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে না পারলে ও অন্তত নিজের চলন শক্তির জন্য তেমন কার ও সহায়তা লাগবেনা )

-এ ছাড়া কার ও কার ও বেলায় হঠাত যে কোন ধরনের এক্সিডেন্ট, ( কোমড়, ঘাড় বা মাথার যে কোন অঞ্ছল, বিশেষ করে স্পাইনাল অঞ্চল ) খুভ বেশি গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত মানশিক দুশ্চিন্তা, অথবা কিছু ঔষধের কারনে ও ঘটতে পারে, যার ফলাফল দেখা যায় মাত্র দুই মিনিটে অবস্থা গুরুত্বর করে ফেলছে, সেই সবের বেলায় সাথে সাথে কারন খুজে বের করে চিকিৎসা করাতে পারলে উক্ত রোগিকে মারাত্তবক বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্বভ । ( সে জন্য সকলের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা থাকা দরকার )

হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke)

শতকরা ১৫% স্ট্রোকের কারণ -সাধারনত ব্রেন এ কোনো রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে এই ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে। কিভাবে ? – যাদের উচ্চরক্তচাপ অনেকদিন থেকে থাকে এবং সাধারনত কন্ট্রোল এর বাইরে থাকে তাদের রক্তনালী হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে ছিড়ে যেতে পারে। ( লাইভ ৩ডি ভিডিও দেখতে চাইলে নিচে দেখুন-

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

তাছাড়া অনেক সময় হঠাৎ কোনো সাইকোলোজিকাল কারনেও রক্ত চাপ বৃদ্ধি পেতে এমনটি হতে পারে। তাছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের এই দুই ধরনের ই স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্যদের তুলনায় বেশি থাকে, বা ব্রেইন টিউমার, মস্তস্কের পাতলা আবরনি ফেটে যাওয়ার মত যে কোন আসুখ ( এনিউরিসম -যাহা রক্তনালীর গায়ে দুর্বল, পাতলা বেলুনের মত অংশ) ছিড়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে অথবা এথারোসক্লেরোসিস হয়ে ( রক্তনালী পাতলা এবং ভঙ্গুর হয়ে রক্ত ক্ষরণ হতে পারে। যা উচ্চ রক্তচাপ মস্তিস্কের রক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায় ) ইত্যাদি ।

এ জাতীয় স্ট্রোক খুভি মারাত্মক, বেশির ভাগ সময় রোগিদের শরির কে স্থায়ী অবসের দিকে ঠেলে দেয় – তবে এই জাতীয় অসুখের আক্রমন ১৫% হয়ে থাকে এবং তার মধ্যে ৮০% বয়স্ক বেক্তিদের বেলায় ঘটে থাকে । সে জন্য ইহাকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে — intracerebral রক্তক্ষরণ -( সাধারনত ব্রেন এ কোনো রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে এই ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে )।

কিভাবে – যাদের উচ্চরক্তচাপ অনেকদিন থেকে থাকে এবং সাধারনত কন্ট্রোল এর বাইরে থাকে তাদের রক্তনালী হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে ছিড়ে যেতে পারে -এ ধরণের রক্তক্ষরণ সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) দ্বারা সৃষ্ট, এবং রক্তপাত হঠাৎ এত দ্রুত ঘটে যে কোন সতর্কতা সংকেত না দিয়েই যে কোন মুহূর্তে কোমা বা মৃত্যু ঘটাতে পারে ! subarachnoid রক্তক্ষরণ = মস্তিষ্ক এবং মস্তিষ্কের আবরণের ঝিল্লির মধ্যে রক্তপাত হওয়াকে বুজায় – ইহা ধমনির দেওয়াল ফেটে গিয়ে, মস্তিস্কের পাতলা আবরণী ফেটে গিয়ে , জন্মগত কারনে, অথবা উচ্চ রক্তচাপ বা অথেরোস্ক্লেরোসিস হিসাবে যে কোন কারনে হতে পারে, তবে ব্রেনস্টেমের স্ট্রোক সর্বাধিক বিপজ্জনক, কারণ ব্রেন স্টেমে শ্বাস-প্রশ্বাস, হূৎপিণ্ডের চলাচল ও জ্ঞানরক্ষার কেন্দ্র অবস্থিত বিধায় এ জাতীয় আক্রমনে রোগি বাচলে ও কোন দিন ই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আশা করা অসম্বভ ।

হেমোরেজিক স্ট্রোকের কিছু নিয়ম আছে যাকে recurrent strokes বলা হয় – যা কিনা ২৫% বেলায় স্ট্রোকে প্রথম আক্রান্তের পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে এমনিতেই আক্রমনের ঝুকি থাকবে ৮৫% এবং ৩% বেলায় প্রথম স্ট্রোকের পরবর্তী ৩০ দিনের ভিতর দ্বিতীয় টি হয়ে থাকে এবং এক তৃতীয়াংশ দের বেলায় পরবর্তী দুই বছরের মধ্যেই ঘটে থাকে।

তখন বেশির ভাগ রোগিকে চিকিৎসকরা ঠিকিয়ে রাখতে পারেন না যদি বয়স ৫৫ উপরে হয় !!!!! দুর্ভাগ্য জনক হলে ও কথা টি সত্য , তবে আক্রান্ত রোগি যদি তার কিছু নিয়ম কানুন অনুসরণ করে চলয়া ফেরা করেন তা হলে অনেক সময় এই ট্রাকিং, সময়ের পরিবর্তন হতে দেখা যায় ( ইউনি অব অস্টারসায়ার )

এবারে দেখি বিশেষজ্ঞগন কি কি কারন কে খুভ বেশি দায়ী করেছেন

যদি ও স্ট্রোক এবং হৃদরোগ আলাদা , তার পর ও ঝুঁকির কারণগুলো প্রায় এক ধরণের । যে কোন বয়সে স্ট্রোক হতে পারে পুরুষ বা মহিলাদের , তবে সাধারণত ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষের স্ট্রোক একটু বেশিই হয় এবং তা ও পুরুষদের বেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশী । যে সকল প্রধান কারন তা হচ্ছে = উচ্চ রক্তচাপ = রক্তে অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল =ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ =ধুমপান/ মদ্যপান=হাইপারলিপিডেমিয়া থাকা= ইশকেমিক হার্ট ডিজিস বা ভাল্ভুলার হার্ট ডিজিস থাকা ( যাদের হৃদপিন্ডের বিভিন্ন অসুখ যেমন-হৃদপিন্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া (Heart failure), হৃদপিন্ডের ত্রুটি (Heart defect), হৃদপিন্ডের সংক্রমণ (Heart Infection), হৃদপিন্ডের অস্বাভাবিক স্পন্দন ইত্যাদির সমস্যা আছে, যাদের শরীরের মেদ ভুড়ি শরীরের কাটামোর চাইতে বেশি, তাদের বেলায় স্ট্রোকের ঝুকি সবচাইতে বেশি ।

এ ছাড়া অন্যান্য যে সব কারন থাকতে পারে – বংশে স্ট্রোক রোগী থাকলে=অতিরিক্ত টেনশন বা মানসিক চাপে থাকা অথবা প্রচণ্ড গরমের কারনে (( হিট স্ট্রোক ) অথবা যাদের অতিরিক্ত রাগাম্বিত / স্বভাব = কেউ কেউ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িকেও এর কারণ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রসবকালীন একলাম্পশিয়ার জটিলতা , হলে == ওজন স্বাভাবিক এর তুলনায় বেশি যাদের = পলিসাইথেমিয়া =থ্রম্বোসাইথেমিয়া , কিছু কিছু ওষুধ বা রোগের কারণে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে গিয়ে হতে পারে, যেমন—অ্যাসপিরিন, ক্লপিডগ্রেল প্রভৃতি ব্যবহারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। = রক্তে হিমগ্লোবিনের পরিমান বেড়ে গেলে = শিরা বা ধমনির ইনফেকশন জাতীয় অসুখ বা সর্বশেষ তথ্য অনুসারে যাদের শরিরে ভিটামিন B6, B12, B9 (folic acid), and betaine এর অভাব আছে তাদের বেলায় একটু বেশি স্ট্রোক আক্রমণের সম্বাভনা বেশি আছে বলে মনে করা হয় ।

১- রিসার্চ অনুসারে- প্রথমেই বলতে হবে , যে কোন ভাবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারলে স্ট্রোকের হার কমানো সম্বভ – যদি মনে করেন আর ও বিস্থারিত জানার দরকার তা হলে উচ্চ রক্তচাপ অংশে জেনে নিতে পারেন।

মনে রাখবেন একবার উচ্চ রক্তচাপের রোগীর পক্ষাঘাত হয়ে যাওয়ার পর তার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য একজন উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে সব সময় চলা ভালো। উচ্চ রক্তচাপজনিত স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে হলে নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব রোগী এবং তার পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই জানা দরকার।

আর সে জন্য বেশির ভাগ দায়ী রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টারল । কোলেস্টেরল সম্মন্ধে কিছু ভুল ধারনা আছে সে জন্য একটু জানার প্রয়োজন বলে মনে করি- রক্তে কোলেস্টারলের ভাল মন্দ দিক সঙ্কেপে জেনে নিন ঃ – নরমাল- ( ( 40-49 mg/dL (men) + 50-59 mg/dL (women)= 1-1.3 mmol/L (men) =1.3-1.5 mmol/L (women) –

কোন কারনে যদি রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টারল হয়ে যায় তখন শিরা ও ধমনি অথবা হার্টের মাংশ পেশি সমূহ পুরো হয়ে যাওয়ার ফলে রক্তের স্রোত ঠিক মত সঠিক জায়গায় যেতে অনেক সময় লেগে যায়, বা কার ও কার ও এইসব পথের মধ্যে ছোট ছোট পিন্ড হয়ে রক্তের চলা চলে ব্যাঘাতের সৃষ্টি করে , তখন হার্টের প্রচণ্ড চাপে কখন ও এই সব ছোট রক্ত নালি ফেটে যায় বা ছিড়ে যেতে দেখা যায় — সে জন্য কোলেস্টারল কে নিয়ন্ত্রনে রাখার চেস্টা করতে হবে – কিন্তু তার মানে এই নয় যে কোলেস্টেরল কমাতে হলে নামিদামি ওষুধ খেতে হবে।

চেস্টা করবেন প্রাক্রিতিক উপায়ে বা লাইফস্টাইল পরিবরতন করে নিন্ত্রনে রাখার- মেডিক্যাল রিসার্চ অনুসারে দেখা যায় ৫৫ বয়সের উপরে মানুষের মৃত্যুর কারণের সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার তেমন কোন সম্পর্ক নেই বরং অন্য গবেশনায় প্রমানিত হয়েছে যে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কমে গেলে মৃত্যুর হার বেড়ে যেতে পারে , অর্থাৎ সমান অনুপাথিক হারে রক্তে কোলেস্টারলের মাত্রা থাকা আবশ্যক । ( লাইভ ৩ডি ভিডিও দেখতে চাইলে নিচে দেখে নিতে পারেন।-

ভুল কিছু ধারনা-  আমরা সবাই জানি প্রাকৃতিক কোলেস্টারল তেমন ক্ষতি কারক নয় কথা টি সঠিক হলে ও জানার অভাবে তা ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায় – যেমন কোলেস্টেরলকে ১২০ ডিগ্রীর উপরে তাপমাত্রায় রান্না করলে সেই কোলেস্টারলের উপাদান ভেঙ্গে গিয়ে ৭-আলফা হাইড্রোক্সিকোলেস্টেরল, ৭-বিটা হাইড্রোক্সিকোলেস্টেরল, ৫-আলফা ইপক্সিকোলেস্টেরল, ৫-বিটা ইপক্সিকোলেস্টেরল, কোলেস্টেনট্রায়ল ও ৭-।

যে উপাদান সমূহ তৈরি হয়ে মানব দেহের জন্য অত্তান্ত ক্ষতি কারক হয়ে দাঁড়ায় । তাই যে সকল খবার ১২০ এর উপরে টেম্পারেচার প্রয়োগ করে খেতে হয় , সে সব খাবারে বিদ্যমান কোলেস্টেরল স্বাস্থ্য সমত্ব নয় বরং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলে রূপান্তরিত হয়।

এর জন্য প্রানিজ খাবারের কোলেস্টেরল অবশ্যই সরাসরি ক্ষতিকারক বলতে পারেন। অথবা উচ্চতাপে রান্না বা পোড়া তেলে ভাজা খাবার ও সমান ভাবে দায়ি- তাই তৈলাক্ত খাবার কে অতিরিক্ত পুড়ালেই ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের চাইতে বেশী ক্ষতিকারক কথা টি মনে রাখলেই হবে । অনেকে মনে করেন শুধু কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাবার খেলেই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়।

না অনন্যা খাবার ও মাত্রারিক্ত খেলে কোলেস্টারলে রুপান্তরিত হতে দেখা যায় – যেমন, অতিরিক্ত ভাত বা রুটি জাতিয় খাবার বা অনেক সময় চিনি থেকে ও বাড়তি কার্বোহাইড্রেট লিভারে চর্বি ও কোলেস্টেরলে রূপান্তরিত করে শরীরের কোলেস্টারলের মাত্রা বাড়াতে পারে – সে জন্য সুগার ভর্তি বাজারের কোমল পানিয়, অতিরিক্ত ভাত, চিনি, গম ইত্যাদি ইন্ডেরেক্টলি কোলেস্টারল উৎপাদন করে থাকে বিধায় অতিরিক্ত না খাওয়া ভাল ।

কোলেস্টারল কেন দরকার–  কেউ কেউ আগে ভাগে বেশি ভয় পেয়ে কোলেস্টেরল লেভেল পর্যায়ের থাকলে ও আর কমানুর চিন্তা ভাবনা করেন ! তাও কিন্তু ভুল ?

কারন কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রাসায়নিক যৌগ। শরীরে পর্যাপ্ত কোলেস্টেরল না থাকলে ভিটামিন ডি, টেস্টোস্টেরন, ইসট্রোজেন ও অ্যালডোস্টেরন জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় হরমোন উৎপাদন কমে যাবে। এতে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে আর অন্যান্য মারাত্তবক অসুবিধা দেখা দিবেই বিশেষ করে যৌনক্ষমতা হ্রাস সহ মানসিক দুর্বলতা বেড়ে যাবে । কোলেস্টেরল কমানোর জন্য চিকিৎসকরা স্ট্যাটিন গ্রোফের অ্যাটরভেস্ট্যাটিন, ল্যাসকল ইত্তাদি ওষুধ দিয়ে থাকেন কিন্তু যাহারা এই সব ঔষধ ব্যাবহার করেন তাদের যৌনক্ষমতা হ্রাস বা বিনষ্ট হয়ে যায় শতকরা ৮০% ।

লেখক: ডাঃ হেলাল কামালি

 

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে