চির চির ফাটা জাতীয় চর্ম রোগ | হেলথ বার্তা
,
আপডেট

চির চির ফাটা জাতীয় চর্ম রোগ

ডাঃ হেলাল কামালি/ Ichthyosis / ইকথাইয়োসিস /, fish scale skin./ বা চির চির ফাটা জাতীয় চর্ম রোগ ( Type 1 & 2 )

বাজারে অনেক ধরনের ক্রিম আছে শরিরের দাগ , চিহ্ন বা ফাটা সমুহ মিলানোর জন্য কিন্তু ইকথায়োসিসের দাগ বা চিহ্ন কখন ও মিলানো সম্বভ নয় যেহেতো ইহা একটি জেনেটিক কোষ বিভাজনের অনিয়ন্ত্রিত অসুখ বরং ভিটামিন এ জাতীয় খাবার , শুষ্ক আবহাওয়া ও অতিরিক্ত এলারজিক জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা ভাল এবংএবং গ্লিসারিন মিস্রিত/পেট্রোলিয়াম জেলি জাতীয় লোশন বা ক্রিম ব্যাবহার করেই তা নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্বভ ।

বেশ কিছু চর্ম রোগ দেখা যায় শীত কালে যা কিনা গরমকালে তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না। যেমন ,খুশ পাচড়া , দাদ, সুরাইসিস, একজিমা, keratosis pilaris ইত্যাদি – কিন্তু হয়তো একটা অসুখ নিয়ে আমাদের সকলের তেমন জানা নেই বা অনেকে এই অসুখ কে অন্য অসুখ বলে মনে করে থাকি – তার নাম হল ইকথায়োসিস ( চর্ম আঁশ জোক্ত চিড়ল চিড়ল দাগ বা ফাটা ইংরেজিতে যাকে fish scale রোগ বলা হয় )= যা প্রতি হাজারে ২/৪ জনের থাকবেই – বিশেষ করে ঠান্ডার সময় এর চুলকানি বেশ অসহ্য বা ভিন্ন ধরনের বেক্টোরিয়া সংযোক্ত হয়ে আর তিব্র করে ফেলে – এই অসুখ টিকে অনেকে এলারজি বা একজিমা বলে চালিয়ে নেন – অথচ দেখতে ও অন্য রকম।

রোগ টি আসলে কি ? ইহা চার ধরনের তবে, ৯৫% অসুখ ই ইকথায়োসিস ভালগ্যারিস – ইকথায়োসিস ভালগ্যারিস হচ্ছে জন্ম গত একটা অসুখ । একে বংশগত ত্বকের রোগ বলা যায় ( জেনেটিক -autosomal প্যাটার্ন উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত একটা চিহ্ন )। জন্ম নেওয়ার পর পরই দেখা দিলে কয়েক সতাহের ভিতর মিলিয়া যায় এবং পরবর্তীতে বয়স যখন ৫/৭ হবে সে সময় থেকে তা দৃষ্টি গোছর হতে দেখা যায় । নারী পুরুষের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যাও সমপরিমাণ । তা ও বেশি ঠাণ্ডার সময় । মারাতবক প্রভাব দেখা না দেওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না । এছাড়া বেশির ভাগ আক্রান্ত জায়গা কাপড়ে ঢাকা থাকে বিধায় কেউ দেখতে ও পায়না বা সুস্ক আবহাওয়া ( শীতকাল ) একটু বেশি চুলকানি দেখা দিলে ভাল ক্রিম লোশনের ব্যাবহারে চলে যায় ।

( Under normal circumstances, the body continuously renews its skin surface, building new skin cells and allowing older cells to be shed from the surface. Ichthyosis disrupts this balance either because too many replacement skin cells are produced or because the skin cells do not separate well from the skin surface when it is their time to drop off. The result is that skin cells accumulate into thick flakes that adhere to the body and can resemble fish scales.)

দেখতে কিভাবে বা লক্ষণ সমুহ কি: ( পিকচার গুলো দেখে নিন ): এ ধরনের আক্রান্ত রোগিদের শরির শুষ্ক থাকে , আক্রন্ত অঞ্চলে আঁশযুক্ত চামড়া , ( পায়ে হলে একটু গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে ) নিচ পেট , হাত, এবং শরীরের মাঝখানে হতে পারে . মহিলাদের নাভির নিচে বা পাচা, নিতম্ব ও কোমরের পিছন দিকে বেশি হতে দেখা যায় । কার ও কারও বেলায় শরীরের বিশাল এলাকা নিয়ে আবরণ করতে পারে । আক্রান্ত স্থান দেখতে মাচের শরীর যে ভাবে লম্বা দাগ দাগ ও চিরল ও সূক্ষ্ম লাইন থাকে ঠিক সেই রকম , যার কারনে বৈজ্ঞানিকরা একে ফিস স্কেল রোগ বলে থাকেন । – লক্ষণ হিসাবে, শুকনো চামড়া, আঁশযুক্ত চামড়া ( মাছের শরিরের দাগের মত ) ত্বক পুরু হওয়া,বহুভুজ আকৃতির বাদামী ধূসর বা সাদা হয় নির্ভর করে চামড়ার বর্ণের উপর ।

ত্বকের হালকা চুলকানি থাকতে পারে । খুশ পাচড়া বা দাদ জাতীয় অসুখে আক্রমণ করলে ঐ যায়গার চুলকানি বেশি বাড়ে, বা লম্বা চিড়ল দাগের ভিতর ছত্রাক/ বেক্টোরিয়া বেশি আক্রন করে বিধায় সেখানে ইনফেকশন অতি তাড়া তাড়ি হতে পারে ( স্কিন ক্ষত ) । এ ছাড়া ঐ ধরনের জিন আচরণের বেক্তি দের অবশ্যই শরিরের আর দু এক যায়গায় সাদা ছলমের মত ( দুধ ছলম ) চিহ্ন থাকবেই বিশেষ করে নম্র টিসুতে । সে সাথে মাতার খুস্কি জাতীয় অসুখ, বা মাথার উকুন হওয়ার সম্বাভনা বেশি থাকবে । মুখে ভ্রুন হওয়ার প্রবনতা বেশি অন্যান্যদের চাইতে ৮০% বেশি ( পরীক্ষাধীন , অতচ ইহা সোরাইসিস বা চামড়ার অন্য অসুখ বলে ভুল মনে করে থাকেন ) ।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

অতিরিক্ত ঠান্ডায় চির লম্বা দাগ সমুহে ফাটল দেখা দিতে পারে তবে এ ধরনের জিন বহন কারিদের বংশ গত ড্যাবেটিস হওয়ার সম্বাভনা একবারে কম অবশ্য সেকেন্ডারি বয়সে শ্রবণ সমস্যা বা চোখের অসুবিধা ঘটতে পারে খুভ তাড়া তাড়ি, অতিরিক্ত খুসার কারনে কানের ভিতর খইল বেশি হয়ে থাকে । তা ছাড়া এ জাতীয় জিন টিস্যুতে Keratin বেশি পরিমাণে উৎপাদিত হয় বলে ঐ গ্রোফের মানুষের শরিরের লোমকোপ স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি এবং শুষ্ক চুলের অধিকারী হওয়ার প্রবনতা বেশি । কারন ichthyosis vulgaris is found on chromosome Iq21 and is related to a protein called filaggrin। -( Overheating অথবা অতিরিক্ত গরমের সময় ঘাম ক্ষমতা হ্রাস করে স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত হতে পারে বা কারও কারও শরিরের ঘাম খুভি কম দেখা যায় – ঠাণ্ডা জাতীয় কিছু পান বা আবহাওয়া পরিবরতনে ৭০% এলাজি জাতীয় অসুখে বেশি ভোগে থাকেন ।

যেহেতো বংশ গত তাই ইহা ছোয়াছে বা সংক্রামণ জাতীয় অসুখ নয় । এ ছাড়া মারাতবক কোন অসুবিধা ও দেখা যায় না । শুধু মাত্র একটু চুলকানি জাতীয় অসুবিধা দেখা দেয় । সে জন্য কোন অবস্তায় নুখ দিয়ে চুলকাবেন না কেন না তখন আবার ইনফেকশন হয়ে আশে পাশের অন্যান্য টিস্যু সমুহের ক্ষত হয়ে ইনফেকশনের মাত্রা বেড়া যেতে পারে ।

পরীক্ষা:- আপনার চিকিৎসক কে আপনার পরিবারের সকলের ইতিহাস বলতে হবে । যেহেতো বংশগত জিনতান্ত্রিক অসুখ । যদি কোন কারনে জানা না থাকে তাহলে উক্ত অংশের কিছু চামড়া স্কিন এনালাইসিস করালেই ( ইলেক্ট্রোন মাইক্রোস্কপিক এনালাইসিস ) আপনার চিকিৎসক পূর্ণ রিপোর্ট দিয়ে নিশ্চিত করতে পারবেন।

চিকিৎসাঃ- এ রোগটি কখনই একেবারে ভালো হয়না যেহেতো জিনগত অস্বাভাবিকতা , তাই তেমন চিকিৎসা নাই তবে আধুনিক ল্যাজার স্কিংরাফি করলে ( প্লাস্টিক সার্জারির একটি অংশ ) চামড়ার দাগ সমুহ অনেকটা সরে যায় । তার পর ও নেচারেলি যে অবস্তায় আছেন বা যে রকম আছেন সে রকম থাকাটাই আমার কাছে মনে হয় ভাল, যদি মুখ বা ঠোটে না হয় । এ ছাড়া সবচেয়ে জরুরী যে বিষয় তা হল গোসল করার পর মসচারাইজিং জাতীয় লোশন ব্যাবহার করা অথবা পানির সাথে গ্লিসারিন যোক্ত তৈল জাতীয় কিছু অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি জাতীয় ointment বা ক্রিম সব সময় ব্যাবহার করার অভ্যাস রাখলে দেখবেন কিছু দিনের ভিতর তা অনেকটা কমে গেছে । ( চামড়ার দাগ মিলানোর জন্য বাজারে কিছু ক্রিমের এডভারটাইজিং দেখা যায়, কিন্তু এসব ক্রিম বা লোশন ইকোথায়োসিসের বেলায় অকার্যকর ) আর ও ভাল হবে নিজে নিজে পরীক্ষা করে দেখবেন কোন ধরনের খাদ্য আপনার চুলকানি কে প্রভাবিত করে কিনা – যদি করে থাকে তা হলে তা এড়িয়ে চললে দীর্ঘ দিন চুলকানি না ও আসতে পারে ( ডিম, চিংড়ি, কচু জাতীয় লতা পাতা ইত্যাদি ) ।

শুষ্ক আবহাওয়ার সময় – ইউরিয়া, ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং glycolic অ্যাসিড হিসাবে আলফা হাইড্রোক্সি এসিড খুবই কার্যকর একটি ঔষধ এবং ভিটামিন এ জাতীয় ঔষধ ও কার্যকরী ( গর্ভবতী দের বেলায় নিষেধ ) এবং কিছু কিছু এসিডিক সাবান ও ডিটারজেন্ট এড়িয়ে চলা ভাল বিশেষ করে কারবলিক জাতীয় । নিত্য কাপড় প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে ধোয়ে পরিধান করার চেস্টা করবেন এবং কোন অবস্তায় যেন আধা ভিজা কাপড় অথবা সাবান দিয়ে ধৌত করা কাপড়ে যেন সাবানের পাঊডার জমা না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখবেন , ইত্যাদি ।

এর পর ও যদি আশ্বস্ত না হতে পারেন তা হলে চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন – বা চামড়ায় ইনফেকশন হলে বুজে নিতে হবে বেক্টোরিয়া না ফাঙ্গাসের আক্রমণ হয়েছে সে অনুসারে ইরেথ্রোমাইসিন জাতীয় ( বেক্টোরিয়া ) ফাঙ্গাসের জন্য হলে আন্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যাবহার করতে পারেন — ধন্যবাদ

Version Info:-Professor of Human Genetics,–University of Dundee/ skin –UK -The British Association of Dermatologists & Skin specialist from Bangladesh ( Informed by H.Kamaly )

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে