,
আপডেট

এইচবিএস এজি (Hbs Ag)

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত। এ রোগটি বর্তমান সময়ে খুব মারাত্মক আকার ধারণ করে চলেছে। সংক্ষেপে এটিকে এইচবিএস এজি (Hbs Ag) বলা হয়। এর অর্থ হলো হেপাটাইটিস-বি সারফেস এন্টিজেন যা হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের দেহ থেকে নি:সৃত হয়ে থাকে। শুধুমাত্র হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হলেই রক্তের এইচবিএস এজি (Hbs Ag) পরীক্ষা পজিটিভ হয়।

এই ভাইরাসটি প্রধানত রক্ত ও বিভিন্ন দেহাংশের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে প্রবেশ করে। তাই এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে।

  • পরীক্ষা ছাড়া কারো রক্ত নিজের শরীরে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা।
  • অন্যের ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুঁচ, সিরিঞ্জ, ক্ষুর, রেজার, ব্রাশ প্রভৃথি ব্যবহার না করা।
  • হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক, বিউটি পার্লার, সেলুন এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত না করে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা।
  • অবৈধ যেকোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা।

আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ

এই ভাইরাসটিকে নীরব ঘাতকও বলা হয়। কেননা অধিকাংশক্ষেত্রে কোনোপ্রকার শারীরিক বিচ্যুতি না ঘটিয়েই এটি দিনের পর দিন মানবদেহে বাস করতে থাকে। এটি লিভারে মৃদু ইনফেকশন চালিয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে লিভারের ক্ষতি করতে থাকে। পরবর্তী সময়ে এই ভাইরাসের কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের মতো ভয়ানক রোগও হয়ে থাকে।

চিকিৎসা

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

এই রোগের সবচাইতে ভালো চিকিৎসা জন্মের সময় শিশুকে হেপাটাইটিস – বি প্রতিষেধক টিকা দেওয়া। তাহলে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না। এইচবিএস এজি পজেটিভ থেকে নেগেটিভ হয় দুই ভাবে। (১) চিকিৎসার মাধ্যমে ও (২) শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে। সাধারণত হেপাটাইটিস বি দ্বারা আক্রান্ত ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন রোগীই সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দ্বারা। অবশিষ্ট ১০ জন রোগী শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দ্বারা এ থেকে মুক্ত হতে সক্ষম হন না। তাদেরকে হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। বর্তমানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের দুই ভাবে চিকিৎসা করা হয়। (১) মুখে খাওয়ার ট্যাবলেটের মাধ্যমে ও (২) ইন্টারফেরন ইনজেকশনের মাধ্যমে। চিকিৎসার প্রধান উদ্দেশ্য হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় রাখা। যাতে লিভারের ক্ষতি না করতে পারে এবং পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সার বাসা বাধতে না পারে।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার ধরনের উপর ভিত্তি করে সাধারণত চিকিৎসা করা হয়। এর উপরই নির্ভর করে চিকিৎসা ধরন ও সময়। চিকিৎসা শুরু করার আগে রোগীর লিভারের কার্যকারিতা, রোগীর দেহে অন্য কোনো ভাইরাস আছে কিনা সেসব দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

পূর্বে এই রোগের চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল ছিলো। বর্তমানে আমাদের দেশে কিছু কিছু ওষুধ তৈরি হওয়ার ফলে চিকিৎসা ব্যয় অনেকটা কমে এসেছে। তবে বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের চেয়ে সরকারী হাসপাতাল ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে তুলনামূলক কম খরচে এই ভাইরাসের চিকিৎসা করা যায়।

অনেকে এইচবিএস এজি পজেটিভ হলেও এর টিকা নিয়ে থাকেন। এথেকে পজেটিভ কখনোই নেগেটিভ হয় না। তাই এথেকে নিজে ও পরিবারের অন্য সবাইকে রক্ষা করতে হলে শিশু জন্মের সময়ই তাকে হেপাটাইটিস – বি এর প্রতিষেধক টিকা এবং যেসব মাধ্যম দ্বারা এটি একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করে সেসব বিষয়ে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা।

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply