,
আপডেট

হেপাটাইটিস-বি

পাটাইটিস বি ভাইরাসের কারণে লিভারে প্রদাহের সৃষ্টি হয়ে থাকে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই রোগ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ব্যপকতা

এদেশের প্রায় শতকরা ৭ ভাগ মানুষ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের বাহক। তাদের বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ জটিল লিভারের রোগ হয়ে থাকে। এ দেশের প্রায় ৩.৫% গর্ভবর্তী মায়েরা হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। এই ভাইরাস তাদের নবজাতকের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস, এইডস রোগের চেয়ে ১০০ ভাগ বেশী সংক্রামক। দিনকে দিন হেপাটাইটিস-বি আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রোগের বিস্তার ঘটে?

মূলত দুইভাবে হেপাটাইটিস-বি মানব শরীরে বিস্তার ঘটে

১। উলম্ব ভাবে

২। আনুভূমিক ভাবে

উলম্ব ভাবে বিস্তার

  • রোগাক্রান্ত মা এর কাছে থেকে শিশুতে।
  • প্লাসেন্টা জরায়ু থেকে পৃথক হওয়ার সময়।
  • অ্যামনিওসেনটেসিস করা হলে।
  • জন্মের পরে ভাইরাসে আক্রান্ত মায়ের সাথে শিশুর ঘনিষ্ঠতা থেকে।

আনুভূমিক ভাবে বিস্তার

  • নিরীক্ষাবিহীন রক্ত এবং রক্তের উপাদান পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে।
  • ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশার দ্রব্যাদি গ্রহণের সময়।
  • মেডিকেল ও ডেন্টাল চিকিৎসা গ্রহণ কালে দূষিত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে।
  • ব্যক্তিগত জিনিস একাধিক ব্যক্তির ব্যবহারের ফলে, যেমন- টুথ ব্রাশ, রেজার।
  • সমকামী ও উভয়কামী।
  • শরীরের অন্যান্য তরল যেমন- লালা রস এবং ভ্যাজাইন্যাল তরল পদার্থ যখন রক্তের সংস্পর্শে আসলে।

হেপাটাইটিসসি রোগীর সামাজিক মেলামেশায় এই রোগ ছড়াতে পারে

  • সামাজিক মেলামেশায় (হ্যান্ড শেক, কোলাকুলি) এই রোগ ছড়ায় না। এমনকি রোগীর ব্যবহার্য দ্রব্যাদি যেমন- গ্লাস, চামচ, জামা কাপড়ের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়ায় না।।
  • শুধুমাত্র যে সমস্ত দ্রব্য রোগীর রক্তের সংস্পর্শে আসে যেমন: ক্ষুর, ব্লেড, রেজার, টুথব্রাশ, সূচ) সেগুলোর  মাধ্যমেই এই রোগ ছড়াতে পারে।

উপসর্গ

  • আক্রান্ত রোগীর কোন উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
  • এই রোগের সুপ্তবস্থা (ভাইরাস সংক্রমন থেকে রোগের লক্ষণ পর্যন্ত) প্রায় ৪ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগে।
  • এক্ষেত্রে ফ্লু-এর মত জ্বর, ক্লান্তিবোধ, শরীর টনটন করা, ব্যাথা, বমি ভাব এবং ক্ষুধামন্দা-এই রোগের লক্ষণ।

রোগ হওয়ার ঝুঁকি

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)
  • রোগাক্রান্ত মায়ের নবজাতকেরা।
  • ইনজেকশন দিয়ে যারা নেশা গ্রহণ করেন।
  • আক্রান্তের পরিবারের ঘনিষ্ঠ জনেরা এবং তার সঙ্গী বা সঙ্গীনী।
  • স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা যারা রক্তের সংস্পর্শে প্রায়শই আসেন, যেমন- শল্য চিকিৎসক, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও রক্ত সঞ্চালন বিভাগের কর্মীরা, দাঁতের ডাক্তার, সেবিকা এবং ধাত্রীগণ।

রোগের প্রতিরোধ করা

১। ব্যক্তিগত পদক্ষেপ

  • ব্যক্তিগত দ্রব্যাদির সহব্যবহার্য বর্জন করা
  • একবার ব্যবহার্য সিরিঞ্জ ও সূচ ব্যবহার করা
  • নিরাপদ রক্তসঞ্চালন
  • নিরাপদ যৌন চর্চা

২। টিকা গ্রহণের মাধ্যমে

টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি প্রতিরোধ করা সম্ভব। টিকা গ্রহণের আগে অবশ্যই হেপাটাইটিস-বি স্ক্রিনিং করে নেওয়া উচিত।

টিকার নিয়ম-

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এর পরামর্শ অনুযায়ী এই টিকা দিতে হবে- ০,১,৬, অথবা ০,১,২, ও ১২ মাসে। যদি কাক্ষিত টাইটার অর্জিত না হয়, তবে ৩য় ডোজের পর অতিরিক্ত আর একটি ডোজ (বুস্টার ডোজ) নিতে হয়।

টিকার কার্যকারিতা

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ৮৫ থেকে ১০০ ভাগ এন্টিবডি প্রস্তুত করার ক্ষমতা (এন্টিবডি রেসপন্স) দেখা যায়। টিকা দেওয়ার ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে এন্টিবডি টেস্ট করে টাইটার দেখতে হয়। এন্টি এইচবিএস ১০০ ইউনিট হলে ভাল, ১০-১০০ ইউনিট হলে মোটামুটি এবং ১০ ইউনিট এর কম হলে অতিরিক্ত আরেকটি ডোজ (বুস্টার ডোজ) নিতে হবে।

সংক্রমণ নির্ণয়

প্রাথমিক ভাবে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস সংক্রমণ সনাক্তকরণের জন্য রক্তে এইচবিএসএজি স্ক্রিনিং টেস্ট করতে হয়। এজন্য রোগীর শরীর থেকে সামান্য রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করলে হয়।

হেপাটাইটিসবি পেজটিভ রোগীদের করণীয়

হেপাটাইটিস বি পজেটিভ রোগীদের অহেতুক ঘাবড়ানোর কারণ নেই। তবে জেনে নিতে হবে যে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কারণে লিভার কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা অথবা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা। এর জন্য HBeAg, AST (SGOT), ALT (SGPT), HBV-DNA, পেটের আলট্রাসাইন্ড (Ultrasound) এবং এন্ডোসকপি (Endoscopy of upper GIT) পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। এই সমস্ত পরীক্ষার ফলাফল এবং রোগীর শারীরিক উপসর্গ বিবেচনা করে সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণ করতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা আরম্ভ করতে হয়।

হেপাটাইটিসবি জনিত লিভার সিরোসিস এর চিকিসা

লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন (Liver Transplantation) লিভার সিরোসিস এ আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ। অপারেশন এর মাধ্যমে রোগাক্রান্ত লিভার অপসারন করে সেই স্থানে দাতা ব্যক্তির সম্পূর্ণ বা আংশিক সুস্থ লিভার প্রতিস্থাপন করে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন করা যায়।

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply