,
আপডেট

জলাতঙ্ক রোগা সম্পর্কে জেনেনিন

হাইড্রোফোবিয়া বা জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও সময়মত ব্যবস্থা নিয়ে মৃত্যু এড়ানো যায়। এখন অবশ্য ‘হাইড্রোফোবিয়া’ না বলে ‘র‌্যাবিস’ বলা হয়। মূলত জলাতঙ্ক র‌্যাবিস-এর অনেকগুলো লক্ষণের একটি। বাতাসভীতিও এ রোগের একটি লক্ষণ। গ্রীক পুরাণে চার হাজার বছর আগেও জলাতঙ্ক রোগের উল্লেখ পাওয়া যায়।

কারণ: এক ধরনের ভাইরাসের আক্রমণে জলাতঙ্ক রোগ হয়। এই ভাইরাস মস্তিষ্কসহ পুরো স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। এ রোগের লক্ষণ একবার দেখা দিলে আর বিশেষ কিছু করার থাকে না। মৃত্যু একরকম নিশ্চিত। কিছু ওষুধ এবং সেবা-শুশ্রূষার মাধ্যমে রোগীকে কিছুটা ভাল রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে বেঁচে যাওয়ার নজিরও আছে।

শিয়াল, ভালুক, বাদুড়, বেজি ইত্যাদি বন্য জীবজন্তুর কামড় বা থাবার মাধ্যমে ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে। এছাড়া লোকালয়ে থাকা কুকুর বা বিড়ালও জলাতঙ্কের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশে প্রধানত কুকুরের কামড়েই জলাতঙ্ক হয়। বাহক প্রাণীর রক্ত এবং লালায় জলাতঙ্কের ভাইরাস থাকে। কেবল থাবা বা কামড় নয়, আগে থেকে থাকা ক্ষতস্থান প্রাণীর লালার সংস্পর্শে আসার কারণেও জলাতঙ্ক হতে পারে।

এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় এবং ধীরে ধীরে পুরো স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। কামড়ের ১০ দিন থেকে এক বছরের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তবে গড়ে ৩ থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। আর সাধারণত লক্ষণ দেখা দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়।

জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিস হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়:

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)
  • ক্ষতস্থান চুলকানো,
  • ক্ষতস্থানে ব্যথা,
  • মুখ থেকে লালা নিসৃত হওয়া,
  • উত্তেজনা,
  • স্বল্পমাত্রায় জ্বর,
  • গিলতে সমস্যা হওয়া,
  • পানি পিপাসা থাকা,
  • পানি দেখে ভয় পাওয়া,
  • মৃদু বায়ু প্রবাহে ভয় পাওয়া,
  • আবোল-তাবোল বকা,
  • প্যারালইসিস, ইত্যাদি।

সতর্কতা: বন্যপ্রাণী এবং যেসব প্রাণী সম্পর্কে বিশেষ জানা নেই সেসব প্রাণী থেকে দূরে থাকা উচিত। যারা কুকুর, বিড়াল এসব প্রাণী পোষেন তাদের উচিত এসব প্রাণীকে টিকা দিয়ে নেয়া। একবার টিকা দিলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত বিরতিতে টিকা দিতে হয়। যাদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয় তারা আগে থেকেই জলাতঙ্কের টিকা নিয়ে রাখতে পারেন।

কুকুর, বিড়াল, বাদুড় ইত্যাদির কামড় বা থাবার শিকার হলে: ক্ষতস্থান সাবন এবং প্রচুর পানি সহকারে ধুয়ে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে স্পিরিট বা আয়োডিন লাগাতে হবে। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কামড়ের দিনই প্রতিষেধক টিকা নেয়া শুরু করতে হবে। যে প্রাণী কামড়েছে সেটিকে হত্যা না করে সতর্কতার সাথে বেঁধে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

যদি ১০ দিনের মধ্যে প্রাণীটির মৃত্যু না হয়, কামড়ের কারণে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি কম বলে ধরে নেয়া হয়। প্রাণীটির শরীরে জলতঙ্ক জীবাণু আছে কিনা সেটা প্রাণীটির মস্তিষ্ক থেকে টিস্যু নিয়েও পরীক্ষা করে দেখা যায়। যদি দেখা যায় জলাতঙ্ক জীবাণু আছে তবে চিকিৎসক সে মোতাবেক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন।

জলাতঙ্কের টীকা সময়মত নিয়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি প্রায় ১০০ ভাগ এড়ানো সম্ভব।

অন্যান্য কারণ ও ভুল ধারণা

জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুরের কামড়ে গরু, ছাগল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণীরও জলাতঙ্ক হতে পারে। এসব প্রাণীর মাংস খেয়ে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ঝাড়ফুঁক বা এ জাতীয় পদ্ধতিতে জলাতঙ্ক বা কুকুর কামড়ের কোন চিকিৎসা করা যায় না। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। ক্ষতস্থানে চুন, হলুদের গুঁড়া বা এ জাতীয় কিছু লাগিয়ে কোন উপকার হয় না। জলাতঙ্কে আক্রান্ত মৃত মানুষের অঙ্গ অন্য মানুষে শরীরে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেও জলাতঙ্ক ছড়ায়। নিচে এই রোগে ভুগছেন এমন একজনের ভিডিও দেয়া হল।

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply