,
আপডেট

টাক বা মাথার চুল কেন পরে? মাথায় টাক কেন হয় ? বিস্তারিত জেনেনিন

সামান্য একটু বিশধ ভাবে তুলে ধরলাম এই কারনে, যে কার মাথার চুল পড়লেই যে টাক হয়ে যাবে এমন কোন কথা নয় যদি গড়ে প্রতিদিন ১৫০ টির উপরে চুল না পরে । তবে এর উপরে যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে চুল পড়তে থাকে তা হলে মনে করতে হবে কিছু একটা অসুখ বিশুখ আছে ই – চুল কেরাটিন নামের এক রকম প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।

চুলে ৯৭ ভাগ প্রোটিন ও ৩ ভাগ পানি রয়েছে। চুলের যেটুকু আমরা দেখি সেটি মৃত কোষ। কারণ এতে অনুভূতিশীল কোনো কোষ নেই। কোন কারনে চুলের কিউটিকন নষ্ট হয়ে গিয়ে চুলের কটেক্সের আঁশগুলো খুলে গেলে চুলের আগ ফেটে যায়। এতে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে ওঠে মূলত সে কারনেই চুল পড়তে থাকে। একজন মানুষের মাথায় গড়ে লাখ থেকে দেড় লাখ চুল থাকে এবং প্রতি টি চুল গড়ে ২/৮ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

তবে জানার আগে বলে দেই বংশ গত ও হরমোন জনিত কারন ছাড়া মাথার চুল পড়লে মনে করবেন আপনার যে কোন একটি অসুখের লক্ষন হিসাবে চুল পড়তেছে, কেননা চুল পড়া অনেক সময় অন্য অসুখের লক্ষন হিসাবে ও দেখা যায় এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান একে অ্যালোপেসিয়া ( টাক জাতীয় অসুখ ) বলা হয় ।

চুল পড়ার চক্র:

একটা চুল গড়ে ২/৬ বছর পর্যন্ত বাঁচে, এবং যখন এই চুল টি মরে যায় তখন সেই জায়গায় আবার নতুন চুল গজায় নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে। এই চক্রকে আবার তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। (১) অ্যানাজেন, (২) ক্যাটাজেন ও (৩) টেলোজেন।

চুল বৃদ্ধির মূল কাজটি হয় অ্যানাজেন পর্যায়ে থেকে যা সাধারণত ২-৬ বছর পর্যন্ত হতে থাকে। চুলের ব্রিদ্দি ১.২৫ সেন্টিমিটার প্রতি মাসে অথবা ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত এক বছরে বাড়ে , কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে চুলের এই বৃদ্ধির হার কমতে থাকবে (বার্ধক্যতার সময় অনেকের একেবারে না ও থাকতে পারে)। প্রতিটি চুল টেলোজেন পর্যায়ের পর পড়ে যায় এবং এই পড়ার হার হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টি প্রতিদিন।

আমাদের মাথার শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ চুল অ্যানাজেন পর্যায়ে থাকে। প্রায় ১০ থেকে ১৫% চুল টেলোজেন পর্যায়ে থাকে (ক্যাটাজন খুবই স্বল্পকালীন সময় সাধারণত ২ সপ্তাহ) এবং এর পরেই শুরু হয় টেলাজেন পক্রিয়া যা ২/৪ মাস পর্যন্ত হয়। টেলোজেন পর্যায়ের পর একটি চুলের গোড়ায় নতুন চুলের আবির্ভাব ঘটে এবং পুরাতন চুলটি পড়ে যায়। এভাবে নতুন চুলটি অ্যানাজেন পর্যায়ে জন্ম নিয়ে জীবন চক্র শুরু করে।

যদি সে সময় যে কোন কারনে টেলোজেন পর্যায় দীর্ঘতর হয় তা হলে চুল বেশি পড়বে। এ ছাড়া চুলের ফসিকল শুকিয়ে গেলে নতুন চুল নাও গজাতে পারে তখন ই মাথায় টাকের সৃষ্টি হয়। তখন চুল পড়ার জন্য চুলের গোড়ার বা ফলিকলে একটি এনজাইম তৈরি হয়, যার নাম ফাইভ আলফা রিডাকটেজ। এই এনজাইম রক্তে অতিবাহিত হরমোন টেস্টস্টেরনকে ডাই হাইপ্রোটেস্টস্টেরনে পরিণত করে। যার আরেক নাম ডিএইচটি ( DHT )।

ডিএইচটি চুলের গোড়ায় আক্রমণ চালায় এবং চুল দুর্বল করে ঝরে পড়তে সাহায্য করে। পুরম্নষদের চুল সাধারণত সামনের দিকে পড়ে এবং টাকে পরিণত হয়। আর মহিলাদের পুরো মাথার চুলই এককভাবে পড়ে এবং পাতলা হয়ে যায়। মহিলাদের শরীরে অ্যারোমাটেজ নামে এক প্রকার এনজাইম তৈরি হয় যা ডিএইচটিকে ইস্ট্রোজেনে পরিণত করে।

সাধারনত পুরুষের বেলায় ই বেশির ভাগ সময় টাক দেখা যায় তবে মহিলাদের ও টাক হতে পারে যখন একজন মহিলার মেনপুজের সময় হয়ে যায় (বয়স ৩৮/৪৮) তখন তখন ফিমেল হরমোনের পরিমাণ কমে যায় এবং মেল হরমোন বা টেস্টোস্টেরন/এন্ড্রোজেনের আধিক্য বেড়ে যায় ও একই নিয়মে ছেলেদের মত টাক পড়তে পারে। তবে পুরুষের বেলায় একি নিয়মে টাক না ও পড়লে চুল একেবারে পাথলা হয়ে ঝরে যায়। তখন যদি একটু খেয়াল রাখেন তা হলে ডিএইচটিকে বাধা দেয় এমন ওষুধ ব্যবহারে চুল পড়া রোধ করা যেতে পারেন।

শরীরের ডিএইচটি’র মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হলে চুল পড়া কমবে বা টাক জাতীয় অসুখ থেকে মুক্ত থাকা সম্বভ। বর্তমানে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারে চুল পড়ার চিকিৎসা চলছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব ওষুধ ব্যবহার করলে আর ও বেশ কয়েক বছর টাক জাতীয় অসুখ কে এড়িয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ সম্বভ।

এখন পর্যন্ত চুল পড়ার মুল কারনের মধ্যে ৯৫ ভাগ চুল পড়ার কারণ জিনগত বা বংশ গত বলতে পারেন যাকে অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপিসিয়া বলা হয় (নিচে সামান্য একটু বিস্তারিত উল্লেখ আছে আর ও সহজ ভাবে বুজার জন্য)।

বাবা কিংবা মা অথবা দু’জনের কাছ থেকে আগত জিনের মেসিঙ্গের কারনেই মাথার টাক বা চুল পড়ে থাকে , যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া বলা হয় এবং মূলত ইহা অ্যানড্রোজেন (পুরম্নষদের হরমোন)।

আর ও সামান্য কিছুটা সংক্ষেপে আলোচনাঃ

যেমন অ্যালোনিসিয়া কে প্রধানত যে কয়েক টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:– অ্যালোনিসিয়া এরিয়েটা (মাথার বিভিন্ন স্থানে গোল হয়ে সম্পূর্ণ চূল পড়ে যায়) যা সাধারণত অটোইমিউন রোগে এমন হয়। যার নির্দিষ্ট কারন আজ পর্যন্ত জানা নেই। অ্যালোপিসিয়া টোটানিস (সম্পূর্ণ মাথার চুল পড়ে যাওয়া বা সম্পূর্ণ মাথায় টাক)

অ্যালোপিসিয়া ইউনিভার্সালিস (সমস্ত শরীরের চুল পড়ে যাওয়া) ট্রাকশন অ্যালোপিসিয়াঃ- চুলের বিশেষ কোনো স্টাইলের জন্য যদি দীর্ঘদিন খুব টেনে চুল বাঁধা বা টাইট করে খোঁপা বা ব্যান্ড করা হয় তবে এ ধরনের চুল পড়া শুরু হয়। দীর্ঘদিন এক রকম চুল বাঁধার কারণে চুল পড়া পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যায় না। ফলে টেনে বাঁধার কারণে এ চুল পড়া স্থায়ীভাবে হেয়ার লসের কারণ হয়ে দাঁড়ায় টেলোজেন ইফফ্লুডিয়াম- তবে ইহা সাময়িক হয়: স্ট্রেস বা মানসিক চাপ

দুশ্চিন্তায় ভুগলে বা মানসিক সমস্যা থাকলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে চুল পড়তে পারে। তবে এ চুল পড়া সাময়িক এবং পুনরায় চুল গজায়। কিন্তু দীর্ঘদিন মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকলে বা দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে অনেক বেশি চুল পড়ে যেতে পারে।

হরমোনজনিত সমস্যার কারণেঃ

হরমোনের কমবেশি হওয়ার কারণে চুল উঠে যেতে পারে। যেমন থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম বা বেশি হলে, গর্ভবতী অবস্থায় এবং বাচ্চার জন্মের পর হরমোনাল ভারসাম্য পরিবর্তিত হয় বলে তখন চুল বেশি পড়ে মহিলাদের । হরমোনের এ পরিবর্তন আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে পুনরায় চুল গজায়। তবে তা আগের অবস্থায় যেতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কিছু কিছু ঔষধের কারনেঃ-

কোনো কোনো ওষুধের পার্র্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়তে পারে, যেমন: জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি হঠাত করে সেবন ছেড়ে দেওয়া , প্রেসারের ওষুধ, রক্ত তরলীকরণের ওষুধ, হরমোন, মানসিক অসুস্থতার ওষুধ ইত্যাদি।

টিনিয়া ক্যাপাইটিস:- এটি এক ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন, যা স্কাল বা মাথার খুলিতে হয়ে থাকে। এ ফাঙ্গাল ইনফেকশনের জন্য ওই অংশের চুল পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে নাইজোরাল শ্যাম্পু (কিটোকোনাজল) চুলে ব্যবহার করতে হয়। কখনো কখনো দিনে একটি করে এন্টিফাঙ্গাস ওষুধ আট থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত খেতে হতে পারে। ইনফেকশন ভালো হয়ে গেলে চুল আবার গজায়

হেয়ার প্রোডাক্টের জন্যঃ-খুব বেশি পরিমাণ কালারিং এজেন্ট, বি্লচিংসামগ্রী, চুল সোজা করা বা ক্রমাগত রিবল্ডিং করানো ও ঘন ঘন চুল পার্ম করার সামগ্রী ব্যবহার করলে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রোডাক্টগুলো যদি উন্নতমানের না হয় সে ক্ষেত্রে চুল বেশি করে পড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই আবার চুল ওঠে; কিন্তু অনেক সময় হেয়ার ফলিকলের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেলে চুল আবার নাও গজাতে পারে।

অপারেশনের পর:- শরীরে বড় কোনো সার্জারি বা অপারেশনের পর অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়ে যায়। এটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অপারেশনের কারণে শারীরিক পরিবর্তন অথবা মানসিক উদ্বেগের জন্য হতে পারে। সুস্থ হওয়ার পর চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে চুল আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

অসুখের কারণে চুল পড়া:-
কিছু অসুখে, যেমন অ্যানিমিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস , ভিন্ন ধরণের চর্ম রোগ, বা মাথার খুসকি ইত্যাদিতে চুল পড়ে যেতে পারে। অনেক সময় অসুখ ভালো হওয়ার পরও চুল আর আগের অবস্থায় ফিরে যায় না।

খাদ্যাভ্যাস

শারীরিক নিউট্রিশনাল স্ট্যাটাসের ওপর চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। দৈনিক খাদ্য তালিকায় প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট, ফ্যাট, মিনারেলস ও ভিটামিন পরিমিত পরিমাণে না থাকলে চুল পড়ে যায়। এছাড়া দীর্ঘদিন শরীরে কোনো একটি উপাদানের অভাবে চুল পড়তে পারে। যা সচরাচর অল্প বয়স্ক তরুন তরুণীদের বেলায় বর্তমানে বেশি পরিলক্ষিত হইতেছে, হয়তো তার বিশেষ কিছু কারনের মধ্যে সামাজিক কিছু অতিরিক্ত দায়বদ্দতা কে দায়ি করা হয়ে থাকে।

অ্যানাজেন ইফফ্লুভিয়াম- (কেমোথেরাপির কারণে যখন চুল পড়ে): ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেওয়ার পর চুল উঠে যায়। এর কারণ কেমোথেরাপিউটিক ড্রাগসগুলো বর্ধনশীল কোষের ওপর কাজ করে। কেমোথেরাপির প্রথম ডোজ দেওয়ার দুই-তিন সপ্তাহ পর চুল পড়া শুরু হয় এবং কেমোর সর্বশেষ ডোজের তিন-চার মাস পর পুনরায় চুল গজানো শুরু হয়। তবে ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি দেওয়ার পর চুল পড়লে তা আর গজায় না।

উপরেউল্লেখিত কারণে মাত্র পাঁচ ভাগ পুরুষের চুল পড়ে। বাকি চুল পড়ে অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপিসিয়ার কারণে (বংশ গত বা হরমোন জনিত কারনে)
যাই হউক সবভাবিক ভাবে যে সকল কারন বা অসুখ কে চুল পড়ার জন্য দায়ি করা হয় তা নিম্ন রুপ ঃ- অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন নারীর চুল পড়া ও পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ। এই হরমোন সাধারণত পুরুষের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে। যাদের শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেশি, তাদেরই বেশি করে চুল পড়ে। নারীর মেনোপজের সময় ও পরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। তখন হঠাৎ চুল বেশি করে পড়তে শুরু করে।

পুরুষের আংশিক টাক বা Pattern baldness- বংশ গত কারনে পুরুষের চুল পড়া স্বাভাবিক বিষয় হিসাবে মেনে নিলে আর অন্য তেমন কিছু করার দরকার বলে মনে করিনা ।বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে চুল কমতে থাকবে ইহা ও এটি অবধারিত পরিবর্তন। তবে কতটা বা কি হারে চুল পড়ছে সেটি বিবেচ্য বিষয় । বয়স বাড়তে থাকার সঙ্গে চুল কমতে থাকাটা আপনার মনের চাপ বৃদ্ধি করলেও এটিকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত অসুখ বলার কোনো উপায় নেই। মহিলাদেরও চুল ক্রমেই কমতে থাকে। বংশ গত টাক বা অ্যান্ডোজেনিক অ্যালোপেসিয়া স্বাভাবিক চুল পড়বেই একটু বেশি দ্রুতহারে । অ্যান্ডোজেনিক টাকের দুটো প্রধান উপাদান হলো জেনেটিক প্রভাব ও পুরুষ যৌন হরমোন (টেস্টোস্টেরোন)। পুরুষের চুল পড়ার জেনেটিক প্রভাব বেশ জটিল। অনেকগুলো পারস্পরিক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এটা নিশ্চিত যে, কিছু বিশেষ পুরুষের ক্ষেত্রে এসব জিনের কার্যক্রম একটু বেশি প্রবল। মানুষ এ জিনটি তার বাবা-মা কারো কাছ থেকেই পেতে পারে। শুধু তাই নয়, ছেলে বা মেয়ে উভয়েই এ জিনটি বংশানুক্রমে পেতে পারে।

তবে পুরুষরা এর প্রভাবে বেশি টাকে আক্রান্ত হয়ে থাকেন , কেননা তাদের দেহে বেশি মাত্রায় টেস্টোস্টেরোন থাকে। টেস্টোস্টেরোন পুরুষত্ব গড়ে তোলার জন্য খূভী অপরিহার্য। টেস্টোস্টেরোন পুরুষের মাংসপেশিকে বলিষ্ঠ, সবল করে, স্বর গভীর করে হাড় পুরু ও শক্ত করে। টেস্টোস্টেরোন পুরুষের প্রজনন গ্রন্থিগুলো ও প্রজনন কার্যক্রমের জন্যও অপরিহার্য। টেস্টোস্টেরোনের অভাবে পুরুষ পুরোপুরি হতে পারে বা পুরুষত্বের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে পারে না। বয়োসন্ধিকালে টেস্টোস্টেরোন নিঃসরণ বেড়ে যায় বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়াকলাপের মাত্রা ও প্রাবল্য ঠিকমতো বজায় রাখতে। উপরের স্বাভাবিক ও প্রত্যক্ষ কাজকর্মের বাইরেও এ হরমোনটি পরোক্ষভাবে প্রস্টেট গ্রন্থি ও চুলের ফলিকলের ওপর কাজ করে। টেস্টোস্টেরোন পরোক্ষভাবে দাঁতের ফলিকল ধনাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু পরোক্ষভাবেই অন্যান্য স্থানের চুলের ফলিকল বিশেষ করে মাথার চুলের ফলিকলে ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যায় , যা যৌবন শুরুর পর থেকেই গড়ে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় অর্ধেক পুরুষ তার মাথায় টাক নিয়ে জীবনযাপন করে থাকতে শুরু করেন ।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

অ্যান্ডোজেনিক টাকের বৈশিষ্ট্য হলো_ মাথার ওপরের দিকে চুল ঠিক রেখে দুপাশে চুলের সংখ্যা ক্রমেই কমতে থাকা এবং তা দিন দিন বাড়তে থাকা। এখানে চুল পড়ার হার সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। কারো কারো ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের মধ্যেই টাক পড়ে যায়। আবার কারো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২৫ বছর লেগে যায়। সাধারণত অ্যান্ডোজেনিক টাকের বেলায় প্রতি বছর ৫ শতাংশ চুল হারাতে থাকে । তখন প্রতিটি বৃদ্ধিকাল ক্ষণস্থায়ী হতে থাকে এবং চুলও চিকন হতে থাকে। এ ক্ষেত্রে স্থিতিকাল দীর্ঘস্থায়ী হয় ও চুল ত্বকের সঙ্গে কম দৃঢ়ভাবে আটকে থাকতে পারে। ফলে চুল পড়ার হার বাড়তে থাকে। ইহা বুজা যায় মাথা ধোয়া বা চুল আচড়ানোর সময়। সে জন্যই অ্যান্ডোজেনিক টাককে অনেক চিকিৎসক অসুখ বলেন না বা এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, শুধু দেখতে বয়স্ক লাগা বা সৌন্দর্যহানি হয়েছে বলে মনে হতে পারে এবং কখন ও দৈহিক কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় । তবে বর্তমানে টাক কে হৃদরোগের ঝুঁকির একটি দুর্বল চিহ্ন বা লক্ষন হিসেবে ধরা হয় যা নতুন জরিপে দেখা গেছে, টাকওয়ালাদের হৃদরোগ হওয়ার হার বেশি বরং যাদের মাথাভর্তি চুল তাদের কম। আর যেসব মানুষের উচ্চ রক্তচাপ বা যাদের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি তাদের জন্য ঝুকি আরেক্টু বেশি থাকার সম্বাভনা আছেই ।

মনে রাখবেন অন্যান্য যে কোন হরমুনের কারনে টাক পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক মত ঔষধ সেবন করলে চুল আবার আগের মত হয়ে যায় –
চুলপড়া সমস্যা শিশুদেরও হতে পারে, শিশু মাতৃগর্ভে আসার ৩ মাসের মধ্যে কপালে হেয়ার ফলিকিউল আসতে শুরু করে। ৪র্থ মাসে মাথা ও শরীরে হেয়ার ফলিকিউল দেখা দেয়। ১৭ সপ্তাহ ও ১৮ সপ্তাহে মুখ ও মাথার চুলের কান্ড দেখা দেয়। জন্মের আগমুহুর্তে নবজাতকের মাথায় মোটামোটি চুলগজিয়ে যায়। শিশু জন্মের প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কিছু চুলপড়া শুরু হয় (পোস্ট নেটাল শেডিং) এবং এই সময়ের মধ্যে শিশুর মাথায় পরিপূর্ণ চুল দেখাদেয়। বড়দের মত শিশুদেরও নানা কারণে চুল পড়তে পারে। বিশেষ করে নেভাস সেবাসিয়াস, অ্যাপলাসিয়া কিউটিস, ফাংগাল ইনফেকশনের জন্যও চুল পড়তে পারে- ইত্যাদি
মাথায় টাক পড়ার কারন খুঁজতে গিয়ে কিছু পরিক্ষার জন্য আপনার চিকিৎসক বলতে পারেনঃ- যদিও খালি চোখেই কারণ শনাক্ত হয় তার পর ও আবার কিছু ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষা দরকার। যেমন ছত্রাকজনিত হলে মাইক্রোস্কোপি এবং কালচার, এন্ডোজেনিক হলে হরমোন এনালাইসিস, সিফিলিস হলে ভিডিআরএল এবং টিপিএইচএ পরীক্ষা, বিশেষ ক্ষেত্রে ত্বকের পাঞ্চ বায়োপসি এবং ডায়াবেটিস হলে রক্তের সুগার পরীক্ষা।

আধুনিক চিকিৎসা : অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অ্যান্ডোজেনিক টাকের জন্য চুল প্রতিস্থাপনই সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা বলে মনে করেন যা খুবি ব্যয়বহুল পদ্ধতি, তবে কয়েক বছরের জন্য যদি মাথায় টাক না দেখতে চান তা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্ষ অনুসারে বাজারে কিছু ঔষধ আছে তা … মিনোক্সিডিল : এটি বাজারে ১%, ২% ও ৫% মাত্রায় পাওয়া যায়। এটি চুলের ফলিকলের বৃদ্ধিকাল বাড়ায়। তবে এটি শুধু এখন সক্রিয় আছে এমন ফলিকলের ওপর কাজ করে। আর যতদিন এটি ব্যবহার করা হয়, ততদিনই শুধু সুফল পাওয়া যায়। — ইহা এক ধরণের লোশন বা সলিউশন যা সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে হয়।
ফিনাস্টেরাইড : মুখের খাবার ওষুধ এটি। এটি টেস্টোস্টেরোনের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে। ছোট থেকে মাঝারি আকারে পুরুষালি টাকের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যেহ খেতে হয়। এটির মোট চিকিৎসা ব্যয় মিনোক্সির চেয়ে বেশি পড়লেও এটি বেশ সহনীয়। এই ওষুধটি মিনক্সিডিল অপেক্ষা ভালো এবং চুলপড়া কমানোর পাশাপাশি চুল গজাতেও কার্যকর। তবে সন্তান ধারণক্ষম মহিলাদের এটি ব্যবহার না করাই ভালো। এই ঔষধ সমূহ সাফল্য ও জনপ্রিয়তা ‘হেয়ার-ট্রান্স প্লানটেশন’ এর চাহিদা অনেক কমিয়ে দিয়েছে। তবে যাই করেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। অন্যথায় মারাত্তবক ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া – অ্যালোনিসিয়া এরিয়েটা ( মাথার বিভিন্ন স্থানে গোল হয়ে সম্পূর্ণ চূল পড়ে যায় ) এর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গন টাক পড়া যায় গায় স্টেরয়েড জাতীয় ইঞ্জেকশনের জন্য সুপারিশ করে থাকেন বা অনেক ক্ষেত্রে মুখে স্টেরয়েড জাতীয় ট্যাবলেট ও খাওয়ার কথা বলে থাকেন-(প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত স্থানে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে আকারে বেড়ে যাওয়াটাকে রোধ করা যায় এবং নতুন চুল গজাতে থাকে। প্রতি মাসে একবার ইনজেকশন দিতে হয়। )
মনে রাখতে হবে সে জন্য প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি, ই, ও অন্যান্য মিনারেল জাতীয় খাবার অবশ্যই জরুরী ( চুল পড়া প্রতিরোধে কিছুটা উল্লেখ করেছি )

হারবালঃএবং সাপ্লিমেন্টারী সহায়ক হিসাবে যা ব্যাবহার করে দেখতে পারেন:-

* একজাতীয় ছোট বিচির মত তাল যা বেশির ভাগ সমুদ্রের তীরবর্তী বা ভিন্ন জংগলে দেখা যায় – যাকে Saw palmetto বলা হয়ে থাকে (Serenoa repens) beta-sitosterol, যা চুল পড়া বন্ধ করতে বেশ ভাল একটি ভেষজ ঔষধ হিসাবে অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার কিছু কিছু অঞ্চলে ( চায়না ) খুভ সমাধ্রিত এবং পরীক্ষিত । অথবা ঔষধ হিসাবে (see Nutrition and Supplements).androgenetic alopecia- ( টেস্টস্টেরনকে ডাই হাইপ্রোটেস্টস্টেরনে পরিণত করতে সাময়িক বাধা দেয় বলে প্রমানিত – ভিন্ন নামে ক্যাপস্যুল, সাশপেনশন হিসাবে বাজারে পাওয়া যায় – বা লিঙ্কে চাপ দিলে দেখে নিতে পারেন (http://www.provillus.com/int/men/ingredients.php )
* থেরাপিউটিক ম্যাসেজ বা আরমথেরাপি খুভ ভাল ফল দেয় – যেমনঃ উষ্ণ সবুজ চা (এক কাপ গরম পানিতে দুইটি চায়ের ব্যাগ দিন) মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। আধাঘণ্টা রেখে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সবুজ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুল পড়া বন্ধ করে সেইসঙ্গে চুল বড় হতে সাহায্য করে এবং ইহা আর ও কার্যকর হবে যদি এসেন্সিয়েল তৈল ( লেভেন্ডার, রোজমারি, বা জলপাই ) মালিশ করে এতে লাইট ইলেকট্রিক স্টিমুলেটিং করেন – যা বর্তমানে উন্নত দেশে বেশ নামে দামে ব্যাবহার করিতেছেন। কেননা এই পদ্দতিতে জমা এসিড সরে গিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করা হয় যা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত –

* কুমড়োর বিচি ফাইটোস্ট্রোজেনের উৎস, যা চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। এক চা-চামচ করে সপ্তাহে তিন চামচ বেটে চুলে দিলে এক্ষেত্রে কিছুটা চুলের গোড়াকে মজবুধ করতে সহায়ক বলে অনেকে মনে করেন ( এখন ও পরিক্ষা চলিতেছে )

সহায়ক:– ভিটামিন হিসাবে বিটন ( ভিটামিন এইচ এবং ভিটামিন বি৭ ) চুল উঠাতে বেশ ভাল সহায়ক, ( যা লেটুস, গাজর, এবং টমেটো পাওয়া যায়.) এবং খনিজ পদার্থ হিসাবে মূলত চুল ঊটার জন্য বা চুলের ট্রেস ব্রিদ্দিতে নীল সবুজ শেত্তলাগুলি খুভি উপকারী- সাথে অন্যান্য ভিটামিন সহায়ক হলে ও মাত্রা অতিরিক্ত ভিটামিন এ আবার চুল পড়তে সহায়ক আবার ভিটামিন এ ছাড়া চুল রুগ্ন শুষ্ক হয়ে যায় । ।অথবা অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রল করতে গিয়ে অতিরিক্ত শর্করার অভাবে ও চুল পড়ে যেতে পারে ।

চুল পড়া নিয়ে কিছু ভুল তথ্য:- ( টিপস থেকে সংগৃহীত ) সকলের জেনে রাখা ভাল

– প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে যায়। আসলে শ্যাম্পু করলে মাথার চামড়া পরিষ্কার থাকে। তবে সব শ্যাম্পু প্রতিদিন ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন ব্যবহারের কিছু শ্যাম্পু আছে, যা ব্যবহার করলে কখনোই চুল পড়ে না।দিনে ১০০ বার চুল আঁচড়ালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে বলে অনেকেই বলেন। চুল বেশি আঁচড়ালে টান লেগে বরং চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। দিনে পাঁচ-ছয়বার আঁচড়ানোই যথেষ্ট। চুল বারবার কামালে ঘন চুল ওঠে বলে ছোটবেলায় আমরা অনেকেই মাথা ন্যাড়া করেছি। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বেশি বার কামালে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে বরং চুল কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তেল দিলে চুল ঘন হয় বলে মনে করেন বেশির ভাগ মানুষ। বাস্তবে চুল ঘন হওয়ার সঙ্গে তেলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে চুল তেল দিয়ে মসৃণ রাখলে জট লেগে চুল ছেঁড়ার আশঙ্কা কম থাকে। গরম তেল মালিশ করলে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকে বলেও কারো কারো ধারণা। কিন্তু গরম তেল হেয়ার ফলিকলে ক্ষতি করতে পারে। অবশ্য সাধারণ তাপমাত্রার তেল দিয়ে মাসাজ করলে চুলের গোড়ার রক্তসঞ্চালন খানিকটা বাড়ে।

চুল টাইট করে বেণী করে ঘুমালে চুলের বৃদ্ধি বেশি হয় বলে মেয়েরা মনে করে। কিন্তু বেশি টাইট করে না বাঁধাই ভালো। এতে চুল উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রাকৃতিক ভাবে চুল পড়া প্রতিরোধ:- ( সংগৃহীত, প্রেস ২৪টিভি ) ঃ- চুলের যত্ন প্রতি একদিন অন্তর অন্তর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলা দরকার, ঘন ঘন শ্যাম্পু করার ফলে চুলের গোড়ার জমে থাকা সাবান ও তৈলাক্ত পদার্থ থাকে, যাতে ডিএইচটি ধুয়ে যায়। এই ডিএইচটি চুল ঝরে পড়াকে ত্বরানিত করে থাকে। চুলের স্বাস্থ্যের সাথে শরীর ও মনের স্বাস্থ্য এবং অনেকাংশে জড়িত। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমাণমত শাকসবজি, ফল যথেষ্ট পরিমাণে অর্থাৎ ভিটামিন ও মিনারেল সমুদ্ধ খারার গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রকৃতিগতভাবে চুল পড়াকে প্রতিরোধ করা সব সময় সম্ভব নয়। তবে চুলের নিয়মিত যত্ন নিলে চুল পড়ার হার অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। করতে পারেন এই কাজগুলো – খেতে হবে সঠিক খাবার : চুল পড়া প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো সঠিক খাবার গ্রহণ। আপনার শরীর যদি সঠিক পুষ্টি না পায় তাহলে চুলও হবে দুর্বল ও ভঙ্গুর, যার ফলে চুল যাবে ঝরে। খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিন ই ও আয়রন যুক্ত খাবার। আয়রন মাথার ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং ভিটামিন ই রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে ও চুলের গোড়া মজবুত করে। ভেজিটেবল প্রোটিনও চুলের জন্য দরকারি, কারণ এতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা চুল পড়া রোধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তাই নিয়মিত –

মাছ এবং প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খান। ভিটামিন সি একই ভাবে কাজ করে। এছাড়া খান ভিটামিন বি৬ ও জিংক সমৃদ্ধ খাবার। এ দুটোর অভাবে চুল সহজেই খুশকি দ্বারা আক্রান্ত হয়, যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। পানিতেই চুলের যত্ন : অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষণ শরীরের ভেতর যে টক্সিন তৈরি করে তা চুল ও ত্বক উভয়েই জন্যেই ক্ষতি বয়ে আনে। পানি শরীরের ভেতরটা ধুয়ে-মুছে এসব ক্ষতিকর জিনিস শরীর থেকে বর্জ্য আকারে বের করে দেয়। যা চুলের জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা চুলকেও সতেজ ও মজবুত রাখে।

করুন চুলের মাসাজ : প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিট চুলের মাসাজ করলে মাথার ত্বকে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। যার ফলে চুল পড়া রোধ এবং নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। অলিভ অয়েল অথবা এলমন্ড অয়েল দিয়ে চুলে মাসাজ করলে চুল পড়া রোধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুশকি দূর হবে এবং চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে হয়ে উঠবে।

চুলের যত্নে ভেষজ : অ্যালোভেরার গুণের কথা কে না জানে! অ্যালোভেরার নির্যাস মাথার ত্বকে প্রয়োগ করুন। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া প্রতিরোধ করে। চুল পড়া রোধে মেহেদি সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত একটা ভেষজ। এটি চুলকে করে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও মজবুত। মেথিও চুল পড়া রোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া মাঝে মাঝে চুলে ডিম, ভিটামিন ই ক্যাপসুল মাখলেও উপকার পাওয়া যায়।

নিয়মিত চুল পরিষ্কার : চুল সুস্থ ও মজবুত রাখতে চাইলে নিয়মিত চুল পরিষ্কার খুবই জরুরি। তাই নিয়মিত চুল পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন চুলে শ্যাম্পু করুন। তবে অবশ্যই চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু করবেন। নতুবা এই ভুল শ্যাম্পুর ব্যবহারই আপনার চুল পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। চুল আঁচড়ান প্রতিদিন : দিনে অন্তত ২-৩ বার চুল আঁচড়ান। বিশেষ করে রাতে ঘুমুতে যাবার আগে চুল আঁচড়ান। এতে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পেয়ে চুলের গোড়া মজবুত হয়। চুল জোরে না আঁচড়িয়ে বরং আস্তে আঁচড়ান। ভেজা চুল বেশি আঁচড়াবেন না। চুল নরম থাকতে ঠিক করে ফেলুন। চুল আঁচড়াতে ব্রাশের পরিবর্তে দাঁতওয়ালা চিরুনি ব্যবহার করা বেশি ভালো। চুল কখনোই টেনে, শক্ত করে বাঁধবেন না। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে।

লেখকঃ Dr.H.Kamaly

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply