,
আপডেট

যৌন মিলনের জন্য সময় বের করুন!

বিশ্বায়নের যুগে জীবনযাপনের ব্যয় নির্বাহ করতে বর্তমান সময়ে পরিবারের সবাইকে সমানতালে জীবনযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে হয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীও এখন কর্মমুখর হয়ে উঠছে অস্তিত্ব টিকানোর সংগ্রামে। তার উপর দ্রব্যমুল্য এবং অসহনীয় যানযট! সব মিলিয়ে মানুষের মাথা সবর্দা টেনশানে অগ্নিমুর্ত। তার উপর সন্তান জন্মের পর তার দেখ-ভাল ভবিষ্যতের চিন্তা। নানমুখি ব্যস্ততায় স্বামী-স্ত্রীর আন্তরিক বন্ধনের মুল নিয়ামক “শাররীক সম্পর্ক” গৌন হয়ে পড়ে। কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই – অসুখী দাম্পত্য জীবন সংসারের অন্য সব অশান্তির প্রধান কারন।

 

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন যৌনমিলনের জন্য তারা পর্যাপ্ত সময় এবং পরিবেশ পাচ্ছেন না বলে তাদের শাররীক মিলনের হার কমে যাচ্ছে। যদি আপনি আপনারও এমনটি মনে হয়, তাহলে নিচের পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করতে পারেনঃ

স্বতঃস্ফূর্ত থাকুনঃ

যদি আপনার মা/শাশুড়ী/দাদী কিংবা অন্য কোন আত্মীয় আপনার সন্তানদের নিয়ে পার্কে কিংবা অন্য কোথাও বেড়াতে যাবার আগ্রহ প্রকাশ করছেন তাহলে তাকে ব্যাগ গুছিয়ে দিন। সামনের দরজা লক করে দিন। আপনার শোবার ঘর পুনরায় আবিষ্কার করুন। কিছুটা সময় বয়স ভুলে গিয়ে কিশোর কিশোরী হয়ে যান। অথবা বাচ্ছারা যখন স্কুলে তখন রান্নাঘরে কিংবা টয়লেটে স্বামী-স্ত্রী কিছুটা হিংস্র হয়ে যান। মনে রাখবেন মানুষের মস্তিষ্ক ডিপোমিন নামক একপ্রকার হরমোন উৎপাদন করে যা আমাদের আনন্দ অনুভুতি গুলোকে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। কিন্তু এই ডিপোমিন যদি অনেকদিন পর্যন্ত আমাদের মানসিক তারতম্য দেখতে না পায় তখন এর কার্যক্রম শিথিল করে দেয়। (একজন মানুষ যখন নতুন কোন নারী/পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয় তখন ডিপোমিন আবার সক্রিয় হয়ে যায় – এবং যার ফেলে পরকীয়ায় অনেকে আনন্দ উপভোগ করতে শুরু করেন।)

কিন্তু আপনি যদি আপনার সবসময়ের যৌন আসন পরিবর্তন করে অথবা নানা যায়গায় নানা ভঙ্গিমায় যৌন মিলন করেন তখন ডিপোমিন সম্পর্কে একঘেয়েমী থেকে সরিয়ে আনে। তাই সম্পর্কে তাড়কা আনার জন্য বন্য হতে পারেনে – এতে নিজেদেরই লাভ। শুধু ভিন্ন আঙ্গিকে যৌনমিলন নয় – স্ত্রীকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাওয়া কিংবা রেষ্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার মাধ্যমেও ডিপোমিন হরমোন পুনরায় আন্দোলিত হয়।

নিজের জন্য দেয়াল সৃষ্টি করুনঃ

আপনি যদি যৌথ/বড় পরিবারে বসবাস করেন তাহলে কিছু সময়ের জন্য হলেও নিজের আলাদা রাজ্য গড়ে তুলুন। পরিবার থেকে কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের শোবারঘরকে অন্য জগতে রুপান্তরিত করুন। বিয়ের প্রথমদিকে যেমনটা করতেন সে রকম নিজেদের মাঝে হারিয়ে যান। স্বামী/স্ত্রীর একান্ত চাওয়া কিংবা মনের কথা শুনুন – তাকে ফিল করতে দিন আপনি তার জন্য অনেক কিছু। মানুষ যাকে প্রচন্ড বিশ্বাস করে তার সাথে আত্মায় আত্মা মিশেয়ে একাকার হতে চায়। মনে রাখবেন স্বামী-স্ত্রী সহযাত্র্রী; প্রতিপক্ষ্য নয়।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

মাঝে মাঝে সন্তানদের তার দাদা-দাদীর কাছে রেখে দুজনে মিলে ঘুরে আসুন। ঘুরতে বেরুলে এমন একটি আবহ সৃষ্টি করতে পারেন যেন ঘরে আসলেই আপনার সঙ্গী শাররীক মিলনের আগ্রহ জন্মায়। পাগলামী নয় – বাসর রাতের পুনরাবৃত্তি করতে পারেন। নারীরা সাধারনত বিয়ের শাড়ী অনেক বয়স পর্যন্ত যত্ন করে রাখেন। স্বামীকে না জানিয়ে তার মুড বুঝে রাতে বিয়ের সাজে সেজে নিন – সে রুমে আসলে যেন তার অতীত স্মৃতি জাগ্রত হয়।

শাররীক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিনঃ

প্রথমে শাররীক মিলন করুন তার পর ঘরের অন্যান্য কাজ। লক্ষ্য রাখবেন যৌনমিলন যেন কখনো আপনার রুটিনের সর্বশেষ বিষয়বস্তু না হয়। যেমন যদি ঘর গোছানো, কাপড় কাঁচা, রান্না করা, যৌন মিলন – এই হয় আপনার দিনের কার্যক্রম তাহলে ঘর গোছানো, কাপড় কাঁচার মত কম গুরত্বপুর্ন বিষয়গুলোর আগে যৌনমিলন শেষ করুন। এটা স্বাভাবিক যে আমরা দৈনন্দিন ঘর কান্নার কাজকর্ম শেষ করে তেমন একটা মানসিক কিংবা শাররীক শক্তি অবশিষ্ট থাকেনা তাই সঙ্গী চাইলেও মন থেকে অপরপক্ষ সাড়া দেয়না। “৮৪% নারী শুধুমাত্র সংসারে শান্তি রক্ষার জন্য স্বামীর সাথে অনেক সময় শাররীক মিলন করে থাকেন। অর্থাৎ সারাদিনের কাজকর্ম শেষে তারা নিজেদের আনন্দের জন্য শাররীক সম্পর্ক না করে তাকে একটি ডিউটি হিসেবে নেন। এই কারনে আমাদের দেশে নারীরা অন্য দেশের তুলনায় ওরগ্যাজম তথা মিলনে পুর্ন তৃপ্তি থেকে বঞ্চিত।

পরষ্পরের জন্য একসাথে থাকার মত যথাসম্ভব বেশি সময় বের করে নিনঃ

আমাদের দেশে অনেক নারী আছেন যারা স্বামী ঘরে আসলে হিন্দি সিরিয়াল কিংবা টিভির অন্য অনুষ্ঠান অথবা সাংসারিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু তা না করে যদি আপনি অভ্যাস পরিবর্তন করে স্বামী পাশে না থাকা অবস্থায় সিরিয়লাটি পুনঃপ্রচারের সময় দেখেন তাহলে স্বামীকে বেশি সময় দিতে পারবেন। যত বেশি দুরত্ব কমাতে পারবেন তত শাররীক মিলন ডিউটি মনে না হয়ে তার প্রতি “আন্তরিকতা” হিসেবে গন্য হবে। আবার অনেক পুরুষকে দেখা যায় অফিসের কাজ ঘরে নিয়ে আসেন কিংবা ঘরে আসলে নিজের ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। এমনিতেই এখন মানুষের অবসর সময় কমে যাচ্ছে – তার উপর ঘরে যদি পরষ্পরের প্রতি আন্তরিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারেন তাহলে সংসার তথা সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষায় এর প্রভাব পড়বেই। (ভাল কথা আপনি কি বিবাহিত? যদি বিবাহিত হন তাহলে ফেইসবুকে সময় নষ্ট না করে আপনার জীবনসঙ্গীকে সময় দিন। জুকারবার্গ আপনার পরিবারে শান্তি আনতে পারবে না – আপনিই আপনার পরিবারের কোয়ালিটি রিলেশানশিপ বিল্ডআপ করতে হবে।)

বিশেষ মুহূর্তে যৌন দুর্বলতা, শুক্র স্বল্পতা, মিলনে সময় সময় কম, লিঙ্গের শিথিলতা সহ যে কোন যৌন সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্থায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। যোগাযোগ করুন ডাক্তার নাজমুলঃ 01799 044 229

আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে

Leave a Reply